

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন। কমলগঞ্জ ভানুগাছ ধলাই সেতুর পাশে জমিতে বেদে জনগোষ্ঠী থাকার ঐতিহ্যগত বাঁশ ও প্লাষ্টিকের ছাউনিতে তাবু খাটিয়ে প্রায় দুুমাস যাবত বাস করেছে।
বেদে জনগোষ্ঠীর লোকজন সাপ, নেউল ইত্যাদি নাচিয়ে শারিরীক কসরত জাদুর খেলা দেখিয়ে, পোক-জোঁক ফেলে, শিঙ্গা বসিয়ে, শেকড়-বাকড় ও তাবিজ-কবজ বিক্রী করে, তন্ত্র মন্ত্র পড়ে- লোকজন থেকে যা পায় তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বছরের বেশির ভাগ সময় বিশেষ করে ফসল তোলার মৌসুমে ব্যবসায়িক আয়ের উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে পরিভ্রমণ করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরেও আগের মতো তাদের আয় হয়না। তবুও বেদে সম্প্রদায় তাদের চিরাচরিত নিয়মেই চলেছেন।
দিন এনে দিন খাওয়া বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন কোনো রকমে জীর্ণশীর্ণ ছোট তাবু ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি করোনায় সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় ঘরের বাইরে বের হতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ সম্প্রদায়ের মানুষ। কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছে। এতে খাবার সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো। এই ভাসমান বেদে পল্লীর সর্দার মোঃ মহরম আলী প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান করোনা পরিস্থিতিতে কোন গ্রামে যাওয়া যাচ্ছেনা। অন্য জায়গাও যেতে পারছিনা। কিছুদিন আগে পৌর মেয়র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যা কিছু খাদ্য সামগ্রী পেয়েছিলাম, তা শেষ হয়ে গেছে। আমরা শিশুসহ সবাই এই পবিত্র রমজানে কোন ভাবে ডালভাত ও খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সহায়তা করতে প্রশাসনসহ, বিত্তবান ব্যক্তি ও সমাজিক সংগঠনের কাছে অনুরোধ জানান।