করোনায় মেসভাড়া বিপাকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, মওকুফের দাবি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code
রাশেদুজ্জামান রনি,জাককানইবি প্রতিনিধি :
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা মেসভাড়া নিয়ে চরম বিপত্তিতে পড়েছে। মেসভাড়া মওওকুফের দাবিও বিভিন্নভাবে জানিয়ে আসছে তারা। তবে মেস কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক চাপের মুখে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের এ ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্য ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর গত ১৭ ও ১৮ই মার্চের মধ্যেই মেস থেকে চলে যান প্রায় সব শিক্ষার্থী। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা নিজেদের স্থায়ী বাসস্থানে অবস্থান করছেন। সঙ্গত কারণেই তারা মেসের গ্যাস,পানি,বিদ্যুৎ কিছুই ব্যবহার করেননি। তবে মেসমালিকেরা সবকিছুর ব্যয়সহ এপ্রিলের বাড়ি ভাড়া পরিশোধের জন্য বারবার তাদের তাগিদ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এভাবে চলতে থাকলে মেসে অবস্থান না করেই শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে হবে অতিরিক্ত ছয় (৬) মাসের মেস ভাড়া ও আনুসাঙ্গিক খরচ।
মেস ছেড়ে দেয়ারও কোনো সুযোগ দিচ্ছেন না মেসমালিকেরা। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের কিছুই করার থাকছে না। সারাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট গেলেও তা বুঝতে অপারগতা প্রকাশ করছেন মেস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে নামমাত্র টাকা নিয়ে আর টিউশনি করিয়ে মেসভাড়া, আনুসাঙ্গিক ও পড়াশোনার খরচ চালাই। এখন টিউশন নেই, বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এদিকে মেসমালিক অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু আমাকে নয়, আমাদের মেসের সবাইকে। কি করবো বুঝতে পারছি না।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসা। অনেকেই টিউশনিসহ পার্ট টাইম জব করে ব্যয় বহন করে। আমরা সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সকল মেস মালিকদের সাথে কথা বলার জন্য টিম গঠন করেছি। মাসিক ভাড়া ও আনুসাঙ্গিক ব্যয় নিয়ে তাদের সাথে কথা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করতে পারলেই আমরা খুশি।
উল্লেখ্য, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক হল রয়েছে মাত্র দুটি। যেখানে আসন সংখ্যা মাত্র পাঁচশত। বাকী প্রায় সাত হাজার ছাত্র-ছাত্রী ময়মনসিংহ শহর এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাসগুলোতে থাকে। প্রায় ২২০০ আসন বিশিষ্ট দুটি আবাসিক হলের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় এখনো চালু হয়নি বলে মেসগুলোতে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও এসব মেসমালিক কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে হঠাৎই ভাড়া বৃদ্ধি, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code