করোনা আতঙ্কে শেয়ারবাজারে পতনের রেকর্ড

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

শেয়ারবাজার থেকে মন্দাভাব কাটছে না। এরওপর গত রবিবার দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল শেয়ারবাজারে বড়ো ধরনের পতন হয়েছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসইর) প্রধান মূল্যসূচক এ যাবত্কালের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।

Manual1 Ad Code

গত রবিবার শেয়ারবাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পরে এ খরব পান বিনিয়োগকারীরা। ফলে ঐদিন বাজারে স্বাভাবিক পতন হলেও গতকালের মতো খুব বেশি পতন হয়নি।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড়ো ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। যার ফলে শেয়ারবাজারে বড়ো দরপতন হয়েছে। এর আগে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারতের মতো বড়ো বড়ো শেয়ারবাজার ভালো অবস্থানে ছিল। বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আগে থেকেই খারাপ অবস্থানে ছিল। এখান থেকে একদিনে ২৭৯ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ায় এ বাজারের অবস্থা খুবই শোচনীয় অবস্থায় চলে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৫২টির। আর একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিককালে এমন ভয়াবহ দরপতন দেখা যায়নি।

Manual5 Ad Code

গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান মূল্যসূচক হিসেবে ডিএসইএক্স চালুর পর সূচকটির এত বড়ো পতন আর হয়নি। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি শুরুরও নিচে নেমে গিয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক হিসেবে ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে অনেকেই বলেছেন শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। শেয়ারবাজারে বড়ো ধসের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই অফিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

Manual4 Ad Code

গতকালের বাজার বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের বড়ো বড়ো বাজারগুলোর পতন দেখা দিয়েছে। দেশে করোনার রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন গতকালের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, গত রবিবার করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মুজিবর্ষের প্রোগ্রাম পুনর্বিন্যাস করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে।

Manual6 Ad Code

শেয়ারবাজারে বড়ো ধরনের ধস হলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৪৩ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে তিনটির, কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code