

শাহীন আলম, দেবিদ্বার।
যুদ্ধকালীন যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল অটুট রাখা হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য। এখন আমরা ভিন্ন ধারার যুদ্ধে আছি। দৃষ্টির অগোচর প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার অদম্য এক যোদ্ধা ইউএনও রাকিব হাসান। তিনি করোনার শুরু থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন লিফলেট বিতরণসহ মাইকিং প্রচারণা চালিয়ে বেশ আলোচিত হন।
ইউএনও রাকিব হাসান করোনা প্রতিরোধে, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসমাগম এড়াতে বাজার থেকে স্কুল মাঠে বাজার স্থানান্তর, ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং, প্রবাস ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য ও ফলসামগ্রী পাঠানো, তাদের খোঁজ খবর রাখা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গণপরিবহণে জীবানুনাশক স্প্রেসহ নানা মানবিক কাজ করেছেন খুব দক্ষতার সাথে।
এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সুষ্ঠু ও সফলভাবে করোনায় কর্মহীনদের ত্রাণ বিতরণ, বাজার মনিটরিং ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম চালিয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছেন। শুধু তাই নয় রাতের আধাঁর মুচি সম্প্রদায়, বেদে পরিবার, সেলুনের মালিক-কর্মচারী, নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষসহ অতীব দুঃস্থ মানুষের বাড়িতে গিয়ে করোনার ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পরামর্শে তাঁর এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সেনাবাহিনী, জনপ্রতিনিধি, সমাজ সেবক ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। করোনায় রেড জোন খ্যাত দেবিদ্বার উপজেলায় করোনাকালীন সময়ে তিনি জীবনের সর্বাধিক ঝুঁকি নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রধান প্রধান হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলগুলোতে নিজ হাতে মাইকিং করে করোনা সংক্রমণে জনসচেতনতা করেন এবং দোকান পাট বন্ধ রেখে নিজ নিজ বাড়িতে থাকার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে শুরু হওয়া কোভিড-১৯ ভাইরাসের দেবিদ্বার উপজেলায় অবিরাম ছুটে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিব হাসান। করোনার শুরুতেই লকডাউনে প্রবাসীসহ সাধারণ জনগণকে ঘরে রাখা, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা, কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন অমান্যকারীদের ঘরে ফেরানোর কাজ করেন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এছাড়াও নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কিংবা অসহায় মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ এসব মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কাজ করেছেন ইউএনও। ত্রাণ নিয়ে ছুটে চলেছেন মানুষের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জায়গাতে।
ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, এটি একটি যুদ্ধ। আত্মপ্রত্যয় আর চ্যালেঞ্জ নিয়ে সকলকে এ যুদ্ধের মোকাবেলা করতে হবে। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। নিজে বাঁচতে হবে এবং পরিবার পরিজনকে করোনা থেকে বাঁচাতে হবে। এ যুদ্ধে করোনার পরাজয় হবে। বেঁচে থাকবে মানবতা।