

ডেস্ক রিপোর্ট:কলা খাওয়ার পর পানি পান করা নিয়ে নানা ধরনের সতর্কবার্তা শুনতে পাওয়া যায়। বাড়ির বয়স্কদের অনেকেই বলেন, কলা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করলে নাকি পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। সাধারণভাবে সুস্থ একজন মানুষ কলা খাওয়ার পর পানি পান করলে বিশেষ কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কলা শুধু পেট ভরানোর ফল নয়, এর মধ্যে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। পটাশিয়াম শরীরের স্বাভাবিক পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, ভিটামিন সি ও এ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়। ভিটামিন বি৬-ও শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি কলা ও পানির সংমিশ্রণের চেয়ে ব্যক্তিগত হজমের সমস্যা বা খাবার সহ্য করার ক্ষমতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হতে পারে।
কলা খাওয়ার পর পানি পান করা কি ক্ষতিকর?
কলা খাওয়ার পর পানি পান করলে হজমে সমস্যা হবে-এমন ধারণা বহুদিনের। অনেকের বিশ্বাস, কলা ও পানি একসঙ্গে খেলে পেটে গ্যাস তৈরি হয় কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই কলা খাওয়ার পর তৃষ্ণা পেলে পানি পান করা একেবারে নিষেধ-এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে খাওয়ার পর পেট ভার লাগা বা অস্বস্তি হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পানি পান করতে পারেন। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কলায় রয়েছে কী কী পুষ্টি?
কলা শুধু পেট ভরানোর ফল নয়, এতে রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান। কলায় কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার এবং ভিটামিন সি, এ ও বি৬ রয়েছে। এর ফাইবার পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে পটাশিয়াম শরীরের স্বাভাবিক পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন বি৬-ও শরীরের নানা স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। ফলে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় কলা সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।
কখন খেতে পারেন কলা?
সকালের নাশতায় কলা রাখা যেতে পারে। দই, ওটস, বাদাম কিংবা অন্য কোনও পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে কলা খেলে নাশতাটি আরও পরিপূর্ণ হতে পারে। ব্যায়ামের আগে বা পরেও অনেকে কলা খান।
কলা খাওয়ার পর পানি পান করলেই সবার পেট খারাপ হবে-এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে নিজের শরীরে কোনো খাবারের পর বারবার গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিলে বিষয়টি লক্ষ্য করা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।