কাতার আমিরের এয়ার এম্বুলেন্সে দেশে ফিরবেন বেগম খালেদা জিয়া

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ বিমানে নয়, কাতারের আমিরের দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা ফিরবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারর্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম জিয়া আগামী ৫ মে লন্ডন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Manual1 Ad Code

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। বেগম খলেদা জিয়া সঙ্গে তার দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও শর্মিলা রহমানও আসবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া লন্ডনে চার মাস চিকিৎসা নিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশনেত্রী এখন আগের চাইতে অনেক সুস্থ বোধ করছেন। সে কারণে তিনি এখন দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

Manual3 Ad Code

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ৫ মে বেগম খালেদা জিয়া একটি বিশেষ বিমানে, আমরা যেটা আশা করছিলাম যে বিমানে তিনি গেছেন; অর্থাৎ কাতারের রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফিরে আসবেন। ‘
তিনি বলেন, ‘সময়টা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কারণ এই সময়টা নির্ভর করবে বিভিন্ন দেশের উপরে। এটা আমরা যখনই নিশ্চিত হব, আমরা আবার গণমাধ্যমের মাধ্যমে সে তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেব।’

নেতাকর্মী ও দেশের সাধারণ মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে আসবেন। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে আবেগ আছে। প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত-উজ্জীবিত যে তাদের প্রিয় নেত্রী দেশে ফিরে আসবেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধু বিএনপি নয়, সারা দেশের মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, তারা অত্যন্ত শৃঙ্খলা সহকারে রাস্তার দুই ধারে কোনো যানজট যেনো সৃষ্টি না করে এই মহান নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। আমরা পরামর্শ দিয়েছি এক হাতে জাতীয় পতাকা, আরেক হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবো।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সবার কাছে আহ্বান থাকবে তিনি আসার পরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পথটিতে যেনো তারা যাওয়ার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে কাকলি পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে যেন তারা অবস্থান নেন। নিচের সড়ক বাদ দিয়ে। আমার বিশ্বাস জনগণ আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং তাদের নেতৃকে অভ্যর্থনে জানাবেন।’

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এশিয়া মহাদেশের নারী নেত্রীদের মধ্যে যে দুই একজন সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন গণতন্ত্রের জন্য এবং সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কখনোই অন্যায়ের কাছে বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেননি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা করেন তখন তার দুই শিশু পুত্রের হাত ধরে ঢাকায় চলে এসেছিলেন। ঢাকায় এসেই তিনি পাক সেনাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। দীর্ঘ নয় মাস পাক সেনানিবাসে বন্দী ছিলেন।

Manual2 Ad Code

এই মহীয়সী অকুতোভয় নেত্রী যিনি স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই আপোষ করেননি, যিনি গণতন্ত্রের প্রশ্ন কখনোই আপোষ করেননি সেই নেত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশের চিকিৎসা করেন।
পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি যুক্তরাজ্য গিয়ে চিকিৎসা নেন। তার মত এমন ত্যাগ স্বীকার করা নারী নেত্রী চোখে পড়েনি। তিনি আমাদের কাছে শুধু প্রিয়ই নন, তিনি আমাদের বড় সম্পদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কাছে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে, তিনি ছিলেন আমাদের আলোকবর্তিকা। যাকে সামনে রেখে আমরা সব সময় লড়াই সংগ্রাম করি।

Manual5 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহবায়ক আমিনুল হক ও বিএনপি চেয়ারপার্সন একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, নিরাপত্তা সমন্নয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সামছুল রহমানসহ অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ। ডেস্ক জেবি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • কাতার আমির এয়ার এম্বুলেন্স
  • Manual1 Ad Code
    Manual4 Ad Code