কানাডার অভিবাসন আইনে বড় পরিবর্তন, অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার বাংলাদেশি

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : অভিবাসনবান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডা তাদের নীতিতে এবার বড় ধরনের লাগাম টানতে শুরু করেছে। অটোয়া কর্তৃক কার্যকর হওয়া নতুন অভিবাসন ও সীমান্ত আইন ‘বিল সি-১২’-এর প্রভাবে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার শরণার্থীর আবেদন বাতিল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক অভিবাসন প্রত্যাশীকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। নতুন এই আইনের আওতায় শরণার্থী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর যারা কানাডায় প্রবেশ করেছেন, তারা দেশটিতে প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর শরণার্থী হওয়ার আবেদন করলে তা আর গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে স্থল সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে করা প্রায় ২৯ হাজার আবেদন অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার আবেদন সরাসরি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব আবেদনকারীর জন্য সরাসরি কোনো শুনানির সুযোগ থাকছে না; কেবল লিখিত নথির ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে।

Manual5 Ad Code

কানাডায় বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। নতুন এই আইনের ফলে এই বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশির স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত। অভিবাসন প্রত্যাশীদের মতে, অনেক আশা নিয়ে দেশটিতে আসলেও এই কঠোর আইনের ফলে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কানাডা সরকার দাবি করছে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেদনের জট কমাতে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রয়োজনে বড় পরিসরে ভিসা, পারমিট বা পিআর কার্ড বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা পাবে। তবে আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে গত এক দশকের মধ্যে শরণার্থী অধিকারের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code