কান ব্যথা অবহেলা নয়

লেখক:
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট :রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক একটি উপসর্গ। হঠাৎ ব্যথা শুরু হওয়া, কানে সামান্য স্পর্শেই যন্ত্রণা বৃদ্ধি, এমনকি চোয়াল নাড়ালেও ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে অনেকেই চেম্বারে শরণাপন্ন হন। এ ধরনের উপসর্গের একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক কারণ হলো বহিঃকর্ণের সংক্রমণ, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওটাইটিস এক্সটার্না নামে পরিচিত।

Manual5 Ad Code

কেন এত ব্যথা হয়

বহিঃকর্ণের ত্বক নিচের হাড় ও কার্টিলেজের সঙ্গে শক্তভাবে সংযুক্ত (ধফযবৎবহঃ ধহফ ভরীবফ)। ফলে সেখানে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে ত্বক ফুলে ওঠার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। সামান্য ফোলাভাবও ভেতরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে এবং এই চাপই মারাত্মক ব্যথার কারণ হয়। এ কারণেই বহিঃকর্ণের সংক্রমণে ব্যথা সাধারণত বেশি তীব্র হয় এবং কানের বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা আরও বাড়ে।

কারা বেশি আক্রান্ত হন

১.বহিঃকর্ণের সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা। ধারণা করা হয়, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।

২.পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে সামান্য বেশি এ রোগ দেখা যায়।

৩.৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগটি বেশি নির্ণীত হয়।

বিশেষ ঝুঁকিতে কারা

Manual1 Ad Code

ডায়াবেটিস রোগীদের সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে বহিঃকর্ণের সাধারণ সংক্রমণ কখনও কখনও ম্যালিগন্যান্ট ওটাইটিস এক্সটার্না-অর্থাৎ কর্ণনালীর সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সাধারণ লক্ষণ

১.কানে তীব্র ব্যথা।

২.কানে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া।

৩.কানে পানি বা পুঁজ পড়া।

Manual8 Ad Code

৪.কানের লতি বা বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা বৃদ্ধি।

Manual2 Ad Code

ঝুঁকির কারণ

কানে অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি, কটন বাড বা ধারালো বস্তু ব্যবহার, ঘন ঘন কানে পানি ঢোকা (সাঁতার বা গোসলের সময়)। এসব কারণে কর্ণনালীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীবাণু সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

করণীয়

প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে-বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই কানে তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি হলে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কানের যত্নে সচেতনতা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি পরিহার-এই তিনটি বিষয়ই বহিঃকর্ণের সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code