

বিশেষ লেখা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পৌঁছে দিতে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে এসেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেদিনই তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুদেশের মধ্যে ১৯৬৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তঃসীমান্ত রুটগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসাম ও ত্রিপুরা আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবারের সফরকে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর ও অব্যাহত রাখার অংশ হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, নিয়মিত যোগাযোগ হলো সম্পর্কের আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তি। আমাদের নেতারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এছাড়া দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন-জলবিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে জোরালো সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। জলবিদ্যুৎ খাতে ত্রিদেশীয় সহযোগিতা হতে পারে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে সিপা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলো জোরদার করার কথাও বলেন তিনি।
বর্তমান বিশ্ব সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিশ্ব। এ যুগে প্রতিটি রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে আন্তরিক। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি আমরা। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, কৃষি, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও জনসেবাসহ বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রাধান্য পেতে পারে। আমরা আমাদের পণ্য বিক্রির জন্য অন্য দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি; অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় পণ্যের বাজার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিসর বাড়ানো গেলে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না, যা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে।