কুষ্টিয়া চিনি কলে ৪ মাসের বেতন বকেয়া

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল; কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥

Manual3 Ad Code

চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না কুষ্টিয়া চিনিকলের সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। এতে পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হচ্ছে শ্রমিক কর্মচারীদের। তবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ বলছে, সদর দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এদিকে বেতনের দাবিতে চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া চিনিকলের হিসাব বিভাগের কর্মচারী মোক্তার হোসেন জানান, আগের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চলতিমাসও অর্ধেক শেষ। বেতন না পেলে কীভাবে সংসার চালাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ধার দেনা করে কয়েকমাস চলেছেন। এখন ধার শোধ না করলে নতুন করে ধারও পাওয়া যাচ্ছে না। সংসার কীভাবে চলবে ভেবে কূল পাচ্ছেন না তিনি।
কারখানা বিভাগের শ্রমিক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বেতন না থাকায় ভীষণ কষ্টে আছি। সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ আছে। সামনেই রমজান মাস। কবে বেতন পাবো তার নিশ্চয়তা নেই। তার মদ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাইরেও যেতে পারছি না। সব মিলিয়ে বিপদে আছি।’
বেতন ছাড় করতে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ছয় কোটি টাকা এবং আখচাষীদের পাওনা প্রায় ১১ কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়।এসময় চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সুমন মন্ডল, যুগ্ম-সম্পাদক তারিক হাসান সাগর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা ভীষণ অর্থ কষ্টে রয়েছি। প্রায় চার মাস বেতন না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি। কবে বেতন পাবো তারও নিশ্চয়তা নেই। তাই বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।’
শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিচ বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। প্রায় চার মাস বেতন পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। কবে তাদের মুখে হাসি ফুটবে জানিনা। তবে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। দেখা যাক কী হয়।’
কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ‘চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীসহ আখচাষীদের পাওনা পরিশোধ করতে সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের স্বার্থে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তা থেকে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা যদি চিনিকলের আখচাষী তথা চিনিকলের শ্রমিকদের স্বার্থে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। আমার বিশ্বাস কর্মচারীদের পাওনাদী পরিশোধ করা হবে।’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়া চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও আখের পাওনা বাবদ একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সেটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code