

ডেস্ক নিউজঃ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কেমুসাসের সভাপতি আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজনীতি ও লেখালেখিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। বাংলাদেশে যত অর্থনীতিবিদ ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি নিজস্ব স্বকীয়তা ও পান্ডিত্যের দিক দিয়ে নজির স্থাপন করে গেছেন। তার মত পন্ডিত রাজনীতিক বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগরীর দরগাহ গেইটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কেমুসাসের সাবেক সভাপতি আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমেদ নূরের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মরহুমের বোন জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, মরহুমের ভাই সাবেক সচিব ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একে আবদুল মুবিন, মরহুমের ভাই ড. এএসকে মুইজ সুজন, মরহুমের বোন আইন ও সালিস কেন্দ্রের নির্বাহী শীপা হাফিজা ও সৈয়দা লুলু মুবিন।
কেমুসাসের সহসাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক লিপনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি মুক্তাদির আহমদ মুক্তা, কেমুসাসের পাঠাগার সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের ও বেলাল আহমদ চৌধুরী। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান আরো বলেন, ছেলেবেলা থেকেই আবুল মাল ছিলেন ভালো পাঠক ও ভালো দিকনির্দেশক। আমরা যখন একসাথে খেলাধূলা করতাম, তখনও তার মধ্যে একটা নেতৃত্বগুণ লক্ষ করতাম, তাকে সর্বদা বইপাঠে নিবিষ্ট দেখতাম। পাকিস্তান সৃষ্টির পরে শাসকগোষ্ঠি যখন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ভালো চোখে দেখত না, আবুল মাল আবদুল মহিত ও আমরা সেই সময়ে প্রগতিশীল রাজনীতি ও ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মরহুমের ভাই সাবেক সচিব ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একে আবদুল মুবিন বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত আজীবন দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। কাজ করে কখনো তিনি ক্লান্ত হতেন না। রাজনীতি ও সরকারি দায়িত্ব পালনের এত ব্যস্ততার মধ্যেও গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। আমরা ঘুমালে ভর্ৎসনা করে বলতেন এত ঘুমানোর প্রয়োজন কী? মাত্র তিন ঘন্টা ঘুমালেই তো চলে।
সভাপতির বক্তব্যে কেমুসাসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমেদ নূর বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন আদর্শিক মানুষ ছিলেন। বিদগ্ধ লেখক ও গবেষক ছিলেন। একজন সৎ রাজনীতিক ও পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। রাজনৈতিক দুবৃত্তায়নের বিরুদ্ধের সবসময় সোচ্চার ছিলেন। আজীবন সততা ও আদর্শকে লালন করে গেছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক সতীর্থরা হয়তো তাঁকে ভুলে গেছেন। আমরা আজীবন তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মারণ করব।
স্বাগত বক্তব্যে কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি আমলা, মন্ত্রী কিংবা রাজনীতিবিদ হিসেবে কালের বিবর্তনে যতটুকু টিকে থাকবেন, তা থেকে বেশি সরব আলোচিত হয়ে থাকবেন সময়ের একজন চিন্তক ও পন্ডিত হিসেবে। তিনি ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সর্বশেষ মৃত্যুকালীন সময়ে ছিলেন সভাপতি। এই সংসদ তাঁকে আজীবন স্মরণ রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী।