কে হচ্ছেন মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual3 Ad Code

প্রেসিডেন্ট উ তিন কিয়াওয়ের পদত্যাগের ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু ছিল না, কিন্তু এটা নিয়ে মিয়ানমারে মাসব্যাপী জল্পনা কল্পনা চলছে। গত বছর থেকে ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন উ তিন কিয়াও এবং তার অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি।

Manual1 Ad Code

স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসার পর তার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ থেকে তার জিনিসপত্র যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, সে খবর কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আগেই ছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে, অং সান সু চি এবং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সিনিয়র নেতারা উ তিন কিয়াওকে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রকাশ্যে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্বাস্থ্যের অবনতির খবর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমাদের ফার্স্ট লেডি তার (প্রেসিডেন্ট) দেখাশোনা করবেন। আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কি আছে, যেখানে তাকে দেখাশোনার জন্য একজন রয়েছেন?”

সম্মানিত জাতীয় কবির ছেলে উ তিন কিয়াও সবসময় অং সান সু চির প্রতি অনুগত ছিলেন। এর আগে তিনি সু চির ও তার দলের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবিধান অনুসারে, তার নির্বাহী ক্ষমতাও রয়েছে। কিন্তু তাকে পুতুল প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখা হয়েছে সবসময়।

Manual4 Ad Code

চিকিৎসাধীন প্রেসিডেন্ট এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট। অং সান সু চির সাথে একসাথে স্কুলে লেখাপড়া করেছেন তিনি। তিনি একজন সম্মানিত লেখক, অর্থনীতির ডিগ্রি রয়েছে তার এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। যদিও তার এই পদত্যাগটা অনেকটা আচমকাই হলো, কিন্তু সু চি ও এনএলডি’র নেতারা হয়তো এটার সম্ভাব্যতা নিয়ে আগেই ভেবেছিলেন। এমনকি এটাও শোনা গেছে যে সু চি ও তার সহকারীরা শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কথাও বলেছেন।

Manual7 Ad Code

স্বাস্থ্যগত কারণে তিন কিয়াও পদত্যাগ করেছেন। মানুষের কাছে তিনি ভদ্রলোক, নম্রভাষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যার খুব অল্পই শত্রু রয়েছে। সামরিক জেনারেলদেরও তাকে নিয়ে কোন আপত্তি ছিল না এবং তাকে শ্রদ্ধা করতো তারা। এক শীর্ষ জেনারেল একবার বলেছিলেন, সামরিক বাহিনীর প্রেসিডেন্টকে নিয়ে কোন সমস্যা নেই কারণ তিনি কখনই সেনাবাহিনীকে বিরক্ত করেননি।

সংবিধান অনুযায়ী যখন কোন প্রেসিডেন্ট মারা যাবেন বা অবসরে যাবেন, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিবেন এবং নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন হতে হবে। এরপর তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করা হবে। সাবেক সেনাবাহিনীর জেনারেল মিন্ট সুয়ে এখন প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনিই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিবেন এখন।

Manual1 Ad Code

দেশের সংবিধান অনুযায়ী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে পার্লামেন্ট।

উ তিন কিয়াওয়ের পদত্যাগের পরপরই নিম্নকক্ষের স্পিকার এবং সু চির বিশ্বস্ত সিনিয়র এনএলডি সদস্য ৬৭ বছর বয়সী উইন মিন্ট তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনিই মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বলে জল্পনা কল্পনা চলছে।

এনএলডি’র সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে তাকে অং সান সু চি’র আস্থাভাজনদের একজন বলে মনে করা হয়। আরও অনেকেই এ তালিকায় রয়েছেন – নেপিতো কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মিয়াও অং, মান্ডালে অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ড. জাউ মিন্ট মাউং এবং মাগওয়ে অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ড. অং মো নিও। এছাড়া প্রেসিডেন্ট পদের যোগ্য কয়েকজন নারী ও জাতিগত নেতারা রয়েছেন। এমনকি মিন কো নাইংও রয়েছেন এই তালিকায়। পঞ্চাশোর্ধ মিন ১৯৮৮ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন যদিও তিনি এনএলডি’র সদস্য নন। তবে সু চির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি।

তবে উইন মিন্ট-ই প্রধান পছন্দ বলে মনে হচ্ছে।

২০১৫ সালে এনএলডি সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিম্ন কক্ষের স্পিকার হন। এটা এখনও স্পষ্ট নয়, শক্তিশালী সংসদীয় এই পদে উইন মিন্টের বদলে কে দায়িত্ব পাবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code