ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ : প্রধানমন্ত্রী

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’। তাদের মধ্য থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে।শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশের দায়িত্ব তোমাদেরকেই নিতে হবে। কারণ তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ।’আজ শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।

শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে তোমাদের সাথে কথা বলি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পড়তে হবে, আর খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।’সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থী সহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’

Manual1 Ad Code

এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘ হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’

Manual2 Ad Code

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আটর্স সহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।

Manual7 Ad Code

বক্তব্যের শেষে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন।এরপরে স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে ৮টি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি উধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code