

ডেস্ক রিপোর্ট: বিনয়-একাগ্রতা হচ্ছে নামাজের প্রাণ। নামাজের যাবতীয় ফজিলত, প্রভাব ও উপকারিতা এই খুশুখুজুর সঙ্গেই সম্পৃক্ত। খুশুখুজুর সঙ্গে নামাজ আদায় করলে নামাজ প্রাণবন্ত হয়। আর খুশুখুজুহীন নামাজ প্রাণহীন লাশের মতো। তাই নামাজে খুশুখুজু অবলম্বন করা একজন মুমিন বান্দার জন্য আবশ্যক।
ইসলামি শরিয়তে খুশুখুজুর গুরুত্ব অপরিসীম। খুশুখুজু বা একাগ্রতা নামাজের প্রাণ। খুশুখুজুহীন নামাজ প্রাণহীন ইবাদত। তাই ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের জন্য খুশুখুজু তথা একাগ্রতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যস্ত যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ একাগ্রতাহীন নামাজ দায়সারা ও শারীরিক ব্যায়ামের উপকারিতা ব্যতীত তেমন কিছুই বয়ে আনে না। মহান আল্লাহর কাছে এমন নামাজের মূল্য নেই। এসব নামাজিদের মহান আল্লাহ নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন এবং শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।’ (সুরা মাউন ৪-৫)
একাগ্রতায় কপটতা : একজন মানুষ যখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে একাগ্রতা ধারণ করে অথচ তার অন্তর একাগ্রতা থেকে খালি থাকে, তখন সে নেফাকি খুশুর শিকারে পরিণত হয় অর্থাৎ অন্তরের একাগ্রতায় কপটতা চলে আসে। যা খুবই নিন্দনীয়। অন্তরের একাগ্রতায় যেন কপটতা চলে না আসে সে জন্য সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের উত্তরসূরিরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতেন। হজরত হুজায়ফা (রা.) বলতেন, ‘তোমরা নেফাকি খুশু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।’ তার কাছে জিজ্ঞেস করা হলো, নেফাকি খুশু কী? উত্তরে তিনি বললেন, ‘এটি হচ্ছে নামাজে বাহির থেকে দেখতে তোমাকে খুব বিনয়ী ও মনোযোগী মনে হবে; কিন্তু তোমার অন্তরের অবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ উল্টো।’