

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। মাঠের অভাবে বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজ করা সম্ভব হয় না। অন্যবিদ্যালয় গিয়ে বর্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠান করতে হয়। টিপিন কিংবা অন্য বিরতির সময় তারা শ্রেনী কক্ষ্যে বসে সময় পার করে অথবা বাড়ি চলে যেতে হয়।।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৭১টি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বিদ্যালয়ে পাকা ভবন থাকলেও খেলার মাঠ নেই। ১৫টি বিদ্যালয়ের জমি নিচু হওয়ায় সারাবছর পানি জমে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে ৩৩শতাংশ জায়গার প্রয়োজন। নতুন বভন নির্মান করায় বা জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় এসব বিদ্যালয়ে আর খেলার মাঠ নেই।
উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে থানার সামনে ১৯৩৩সালেসরকারি বালিকাপ্রতিষ্ঠা হয়। ১টি ভবনে ৭টি কক্ষে এবং ৭ জন শিক্ষক ও ৫১০জন শিক্ষার্থী আছে। আলিয়া কামিল মাদ্রাসার পাশে ষ্টেশন সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয় ১৯৩৪ সালেপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ের ২টি ভবনে ১০টি কক্ষে ১১ জন শিক্ষক সহ ৫২৬ জন শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু খেলার মাঠ নেই। পূর্বলাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রায় ১৫টি বিদ্যালয়ের মাঠ থাকলেও নিচু জমি থাকায় সেখানে খেলাধুলা হয় না।
উপজেলা সদর থেকে ৪কিলোমিটার দূরে সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ২৫০জন শিক্ষার্থী আছে। ৩টি কক্ষের ১টি পাকা ভবন আছে। কক্ষের সংকট থাকলেও খেলার মাঠ নেই। রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহা সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল এক পুকুর। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলা ধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন,আমাদের স্কুলে খেলার মাঠ না থাকায় ৩ কিলোমিটার দূরে রাখালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে বার্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেই। টিফিন হলে ক্লাসে বসে থাকি না হয় বাড়িতে চলে যাই। ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, “টিভিত(টেলিভিশনে) দেখি শহরের স্কুলের মেয়েরা ফুটবল খেলায়, ক্রিকেট খেলায়। আঙ্গো খেলার জায়গা নাই, কোনই খেলমু”।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছিনা আক্তার বলেন,উপজেলার মধ্যে বিদ্যালয়টি যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। গত ৫ বার উপজেলা ও এ বছর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের পুরষ্কার পেয়েছি। শততা ষ্টোর, মানবতার দেওয়াল ও মিড ডে লি চালু রয়েছে। বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৬শতাংশ পুকুরে রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল পুকুর থাকায় শিশুদের খেলা ধুলা করাতে পারছিনা। অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে বার্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠান করতে হয়।
সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মোতালেবজানান, তার বিদ্যালয়ে ৫১০ জন শিক্ষার্থী আছে। ৩ তলা বিশিষ্ট পাকা ভবন ও শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু খেলার মাঠ নেই। ওই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, হাইস্কুলের মাঠ পার হয়ে শ্রেণিকক্ষে যাতায়েত করতে হয়। মাঠ না থাকায় খেলা করতে ও পারিনা।
ষ্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে খেলার মাঠ নেই। পাশে আলীয়া কামিল মাদ্রাসার মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ভবন গড়ে উঠেছে। পাশের এল এম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েল মাঠে বিদ্যালয়েল বার্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠান করা হয়। এখন আপনাদের মাধ্যমে (সাংবাদিক) খেলার মাঠ নিয়ে যদি লেখা লেখি হয় তহলে হয়তো কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।
খেলার মাঠ না থাকায় বিদ্যালয় গুলো হলো: সোনাপুর, বালিকা, চরপাতা গাছির হাট, চরপাঙ্গাছিয়া, দক্ষিন পশ্চিম কেরোয়া, চর মহোড়া, উত্তর গাইয়ার চর, উত্তর চরমহোনা, এম কে ও ষ্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কে এম মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, উপজেলা ১০টি বিদ্যালয় মাঠ না থাকার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। এ নিয়ে শিক্ষা কমিটির সভায় আলোচন হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনর রশিদ জানান, ওই বিদ্যালয় গুলোর পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।
তাবারক হোসেন আজাদ,