

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া এবার ব্রিটিশ কাউন্সিলকে তাদের দেশে অবাঞ্ছিত সংস্থা ঘোষণা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। মস্কো অভিযোগ করছে, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আড়ালে ব্রিটিশ কাউন্সিল পশ্চিমা রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে এবং গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) এক সরকারি বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর | বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ায় ইংরেজি শেখানো নয়, বরং ব্রিটেনের গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করা। এ ছাড়া সংস্থাটি রাশিয়ার জাতীয় নীতিমালা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়ার নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রম বন্ধ করে মস্কো তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম নীতিমালার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে। রুশ প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর বলছে, ব্রিটিশ কাউন্সিল দেশের নীতিমালার প্রতি অসম্মান দেখিয়ে নানা প্রকল্পের মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করছে এবং সমাজে মতভেদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এটি কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময় নয়, বরং একটি কৌশলগত ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার।
রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ এনেছে— যুক্তরাজ্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, মিত্র দেশগুলোকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নানা সংস্থার মাধ্যমে ব্রিটেন বিশ্বজুড়ে ‘ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে তারা। তাদের মতে, জাতিগোষ্ঠীগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের সলসবেরিতে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। এরপরে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। সেই সময় থেকেই ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর ওপর রাশিয়ার সন্দেহ বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওপর রাশিয়ার এই নিষেধাজ্ঞা শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করাই নয়, বরং তা রাশিয়া-পশ্চিম সম্পর্কের আরও এক দৃষ্টান্তমূলক ভাঙনের পরিচায়ক। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ পশ্চিমা সংস্থাগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত হয়ে থাকবে—বিশেষত যেসব সংস্থা রাশিয়ায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রুশ ভূখণ্ডে বিদেশি কার্যক্রম এখন আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়বে, এতে সন্দেহ নেই।
Desk: K