গৃহবধু মীম হত্যার বিচার দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

নাদিয়া ইসলাম মিম, কুষ্টিয়া ॥
কুষ্টিয়ায় যৌতুক নির্যাতনে গৃহবধু তাসনীম মীম হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানব বন্ধন কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় শহরের মজমপুর গেট এলাকায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানব বন্ধন কর্মসূচীতে সভপতিত্ব করেন সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। কর্মসূচীতে মীমের পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, এখনও যদি মীমের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত গৃহবধুকে স্বামীর সংসারে নির্মম যৌতুক নির্যাতনে হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে বিচারের জন্য রাজপথে দাঁড়াতে হয় তাহলে দেশ এগোচ্ছে না পিছাচ্ছে ? নারী নির্যাতনের প্রতিটা ঘটনার পরই তার বিচার চাইতে এখন রাজপথে দাঁড়িয়ে চিৎকার চেচামেচী করাটা যেন আমাদের ভবিতব্যের সাথে অঙ্গীভুত হয়ে গেছে। অবিলম্বে মীম হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূল শাস্তির নিশ্চিত করা দাবি করেন বক্তারা।
নিহত মীমের বাবা কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী মহিবুল আলামের অভিযোগ, ঘটনার দুইদিন পূর্বে মীমের স্বামী দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মৃত: জিন্না মোল্লার ছেলে এজাজ আহমেদ বাপ্পী আমার বাড়ি থেকে মীমকে শ^শুড়বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কিভাবে যাবে ওইসব নিয়ে কথা উঠে। এসময় মীমের শ^াশুড়ী কহিনুর খাতুন আমাকে মোবাইল করে বকাবকি বলে বলেন, ‘আপনার জামাইকে মটরসাইকেল দেয়ার কথা ছিলো, সেটা তো দিলেন না ? এখন ওরা বাড়ি আসবে কিভাবে’? যদিও মটর সাইকেল কেনা বাবদ পূর্বেই তাকে এক লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছিলো বলে দাবি করেন মীমের পিতা মহিবুল। দুইদিন পরই ১সেপ্টেম্বর বিকেলে মীমকে শ^াশুড়ী কহিনুর এবং স্বামী বাপ্পীর যোগসাজসে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে অচেতন অবস্থায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয়। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়; দীর্ঘ ১৪দিন ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরের দিন দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এসময় মানব বন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা হলেন- নদী পরিব্রাজক দল কুষ্টিয়ার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু, রবিন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসিবুর রহমান, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় সদস্য কারশেদ আলম, বাসদ জেলা আহ্বায়ক শফিউর রহমান শফি, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সরকার, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী হাসান আলী, মানবাধিকারকর্মী তাজনিহার বেগম, কবি ও লেখক ও শিল্পী আলম আরা জুঁই, হাসান টুটুল, সঞ্চারী সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি নাঈমা খাতুন হীরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি লাবনী সুলতানা, যুবজোট নেতা মাহবুব হাসান প্রমুখ।
মানব বন্ধনে দাবির বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল আলম বলেন, মীমের পিতা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ধারায় নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের অভিযোগ এনে ৪জনের নামোল্লেখসহ মামলা করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে, এঘটনায় যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেফতার করা হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code