

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) :
কোথায় থাক কমলা ফুলি, সিলেট আমার ঘর, টিঁয়া বলে দেখতে যাব পাখায় দিয়ে ভর” না কমলা লেবুর চাষ এখন আর সিলেটে সীমাবদ্ধ নেই। ঝিনাইদহের মহেশপুরে সমতল ভূমিতে দাজিলিং এর কমলা ও মাল্টা চাষ করা হয়েছে। ফলনে যেমন গাছকে ছাপিয়েছে খেতে তেমনই সুস্বাধু এ কমলা ও মাল্টা। এদিকে নিজ উদ্যেগে এই চাষ করে ভাগ্য ফেরানো সাফলাও পেয়েছেন মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম।
সরজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, স্বরুপপুর মাঠে ৪ বিঘা জমি জুড়ে বিশাল এই কমলা ও মাল্টার বাগান। এখানে ১২০টি দাজিলিং কমলা, ৩০টি চায়না কমলা ও ৫০০ টিরও বেশি মাল্টা গাছ রেয়েছে। এই কমলা ও মাল্টা রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্নস্থানসহ এলাকার ফলের ঘাড়তি মেটাচ্ছে ভূমি রাখছে। এই বাগানের ফল উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি জাতের কমলা ও মাল্টার চারাও তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাগান ভিড় জমাছে কমলা চাষ দেখতে।
কমলা চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি ভারত বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে কমলার ক্ষেত দেখে তিনিও কমলা চাষে আগ্রহী হন। যারই পরিপেক্ষিতে নিজ এলাকার মাঠে ৪ বিঘা জমিতে এই চাষ শুরু করেন। চারা রোপনের তিন বছর পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার গাছে কমলা আসতে শুরু করে। ফল পরিপক্ক হাওয়ার পর তিনি তা বিক্রি শুরু করেন।
এব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাসান আলী বলেন, এখানে চাষকৃত কমলা খুবই সুস্বাদু। আমরা চেষ্টা করছি সম্ভাবনময় এ চাষকে সম্প্রসারন করতে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক এই কমলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা তাদের সাধ্যমত সহযোগীতার চেষ্টা করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অমিত বাগচী বলেন, কৃষকরা যদি এই ধরনের চাষে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের দেশে খাদ্য ঘাড়তি থাকবেনা। আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, রফিকুলের বাগানে উৎপাদিত কমলা আকারে তুলনামূলক বড়। তাছাড়া প্রতিটি গাছে অনেক কমলা ধরেছে। এ কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশের কৃষক। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিরাট ভূমিকা রাখবে।’