

নিউইয়র্ক অফিস: নিউইয়র্কের মেয়র-নির্বাচিত জোহরান মামদানী বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল উচ্ছেদের অভিযানে আর সমর্থন দেবেন না। তথ্য বলছে—গত এক বছরে এসব উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে কাউকে স্থায়ী বাসস্থান বা সহায়তামূলক আবাসনে পাঠানো সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে অ্যাডভোকেটরা সিটি হলে অবস্থান কর্মসূচি করেন। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এসব উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিলেন। এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মামদানী স্পষ্টভাবে বলেন, “না।” তিনি বলেন, “যদি গৃহহীন মানুষদের সেই আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারেন, যা তাদের জন্য জীবন-মরণ প্রশ্ন—তাহলে আপনার কোনো পদক্ষেপকেই সফল বলা যাবে না।” তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত এনওয়াইপিডি, হোমলেস সার্ভিসেস, পার্কস ও স্যানিটেশন—এই চার বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের উচ্ছেদ অভিযানে শহরের ব্যয় হয়েছে ৬.৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
৪ হাজার ১৪৮টির বেশি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কোনো মানুষকেই স্থায়ী আবাসনে পাঠানো যায়নি—না বাসাভাউচার, না সরাসরি স্থানান্তর, না সহায়তামূলক বাসস্থান। গত মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ৫০০ জনকে উচ্ছেদ করা হলেও আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১১৪ জনকে।
অ্যাডভোকেট মার্কাস মুর বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাদের দরকার বাসস্থান, হাতকড়া নয়।” তিনি শহরের সেফটি নেট অ্যাকটিভিস্টস ও আরবান জাস্টিস সেন্টারের সেফটি নেট প্রজেক্টের সদস্যদের সঙ্গে রাস্তায় রাত কাটান। মুর আশা প্রকাশ করেন, মামদানী আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। তিনি বলেন, “গৃহহীন মানুষদের রাস্তায় থেকে সরিয়ে দিয়ে, তাদের ওষুধপত্র ফেলে দিয়ে কিছুই সমাধান হয় না।” মেয়র
অ্যাডামসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অ্যান্ড্রু চ্যাপোটিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তায় থাকছেন এবং এ সময় বহুবার উচ্ছেদ অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। “এনওয়াইপিডি বহুবার আমার সব জিনিসপত্র নিয়ে গেছে,” তিনি বলেন। একবার তিনি বাথরুমে গিয়েছিলেন—ফিরে এসে দেখেন তার সবকিছু উধাও। “এটা খুবই মানসিক আঘাতের। বাঁচতে গিয়ে অনেক সময় এমন কিছু করতে হয়, যা করতে চাই না।”