

ডেস্ক নিউজ: রান্নাঘর বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। কেউ বাড়ি করলে কিংবা ভাড়া বাসা নিলেও রান্নাঘরটি যেন একটু খোলামেলা হয়, সেটি লক্ষ্য করেন। কারণ দিনের একটা বড় সময় এখানে কাটাতে হয় গৃহিণীদের। রান্নাঘরে ঢুকে যদি আপনি জায়গার জিনিস জায়গায় না পান, তাহলে মেজাজ খারাপ হবে– এটাই স্বাভাবিক। একটা গোছানো রান্নাঘর দেখতে যেমন ভালো লাগবে, তেমনি আপনার সময়ও বাঁচাবে। এ কারণে কোন জিনিসটা আপনার অতি প্রয়োজনীয় আর কোনটি একটু কম, সে অনুযায়ী জিনিসপত্র সাজাতে পারেন। এর জন্য সহজ কিছু টিপস জেনে রাখুন–
রান্নাঘরে সাধারণত তিনটি কাজ হয়। এক প্রস্তুত করা, দুই রান্না করা এবং তিন পরিবেশনের প্রস্তুতি। সবচেয়ে ভালো হয়, এ কাজগুলো নিয়ে রান্নাঘরের জোন ভাগ করে নিলে।
কীভাবে সাজাবেন রান্নাঘর
কম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র : আপাতত প্রয়োজন নেই– এমন কিছু জিনিস কেবিনেটের ওপরের দিকে রাখুন।
রঙিন গোছানো ঝুড়ি : রান্নায় নানা ধরনের মসলাপাতি ব্যবহার করা হয়। গোটা মসলা, গুঁড়া মসলা, পাঁচফোড়ন, তেজপাতা থেকে শুরু করে অনেক ধরনের মসলা ব্যবহার হয়। মসলা রাখার জন্য আজকাল সুন্দর সুন্দর ও ছোট-বড় কৌটা পাওয়া যায়। ঝুড়ির মধ্যে মাঝখানে বড় একটা মসলার কৌটা রেখে চারপাশে ছোট কৌটাগুলো রাখুন। এভাবে একটা ঝুড়িতে মসলার কৌটাগুলো রাখলে বারবার খোঁজাখুঁজি করতে হবে না। যে মসলাগুলো মাঝেমধ্যে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো অন্য একটি রঙের ঝুড়িতে সাজিয়ে নিন। ছোট ছোট কৌটার জন্য একটি আলাদা বাস্কেটও রাখতে পারেন। রান্নাঘরে শেলফ কম থাকলে এই বাস্কেটগুলো অত্যন্ত উপযোগী হবে।
কিচেন হ্যাঙ্গার : রান্নাঘরে কিচেন হ্যাঙ্গার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বেশির ভাগ বাড়িতেই কিচেন হ্যাঙ্গার ব্যবহার করা হয়। এগুলো স্থান সাশ্রয় করে, তেমনি হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতে পারেন প্রয়োজনীয় বাসনপত্রও। বাজারে বিভিন্ন আকার ও সাইজের হ্যাঙ্গার কিনতে পাওয়া যায়। এ হ্যাঙ্গারগুলোতে দুধের সসপ্যান, হ্যান্ডেল দেওয়া ফ্রাইপ্যান, ছোট কড়াই টাঙিয়ে রাখতে পারেন। সেই সঙ্গে রাখতে পারেন হাতা, খুন্তি, ছাঁকনির মতো নানা বাসনপত্রও। ড্রিল করে দেয়ালের সঙ্গে আটকে বা জায়গা বুঝে পেস্টিংও করে দিতে পারেন এ হ্যাঙ্গারগুলো। রান্নাঘরে বাসন রাখার র্যাক বা কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে এ হ্যাঙ্গারগুলো আপনার সমস্যা অনেকটা কমাতে পারবে।
সিঙ্ক অর্গানাইজার : রান্নাঘরের আরেকটি জরুরি জায়গা হচ্ছে সিঙ্ক। রান্নাঘর ছোট হলে স্বাভাবিভাবেই সিঙ্ক এরিয়াও ছোট হবে। এমন হলে সাবান, ওয়াশার, স্ক্রাব রাখতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, কল ঘেঁষে সাবান রাখার জন্য সাবানের কেসে সব সময় পানি জমে থাকছে এবং সে কারণে সাবানও তাড়াতাড়ি গলে যায়। সে ক্ষেত্রে এখানে রাখুন সিঙ্ক অর্গানাইজার। এতে একটি ছোট্ট ট্রের কিছুটা অংশজুড়ে একটি বাস্কেট থাকে। ওই বাস্কেটে আবার লাগানো থাকে ছোট একটি হ্যাঙ্গার। সিঙ্কের পাশে এটি রেখে দিতে পারেন। হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে দিন বাসন পরিষ্কার করার জন্য ছোট একটি কাপড়। বাস্কেটে রেখে দিন লিকুইড ডিশ ওয়াশ সোপ, বোতল পরিষ্কার করার ব্রাশ। ট্রের অবশিষ্ট অংশে রাখতে পারেন ডিশ ওয়াশ বার অথবা স্ক্রাব। চাইলে সিঙ্কের নিচে একটা ঝুড়িতেও রাখতে পারেন ডিশ ওয়াশার।
কিচেন প্লাস্টিক শেলফ : রান্নাঘর পরিপাটি করে সাজানোর জন্য ছোট ছোট জায়গাও সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা উচিত। দুই থেকে তিন-চারতলা বিশিষ্ট চাকা দেওয়া সরু শেলফ আজকাল ট্রেন্ডিং। রান্নাঘরে কোনো সরু জায়গা থাকলে সহজেই সেখানে এই শেলফগুলো ঢুকিয়ে দিতে পারেন। এতে রাখা যায় মসলার কৌটা, সসের বোতল ইত্যাদি। আবার একটু চওড়া শেলফ হলে অনায়াসে সেখানে রাখতে পারবেন ফল আর সবজি।
রান্নার তেল রাখার স্থান : রান্নার তেল এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে আলোর সংস্পর্শ আসতে না পারে। তাহলে তেল খারাপ হতে পারে। তেলের বোতল রাখার আলাদা একটা ট্রের মতো কিছু ব্যবহার করতে পারেন।