

গোপালগঞ্জ :
বাই-সাইকেল পাওয়া শিক্ষার্থী সামিয়া খানম। সদর উপজেলার করপাড়া হাইস্কুলের ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। বাড়ী থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার হওয়ায় পায়ে হেটে স্কুলে যেতে হত সামিয়াকে। ফলে অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হবার পাশাপশি পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারিছিল না। তবে বাই সাইকেল পাওয়ায় এখন সঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে। তাছাড়া যখন গ্রামের মেঠোপথে বাই-সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে তখন নিজেকে সাহসী মনে করবে। সেই সাথে আত্ম-নির্ভরশীল হয়ে উঠার পাশাপাশি জাতির জনকের স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ভুমিকা রাখবে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাই সাইকেল পেয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়ায় এমন আত্মবিশ্বাসের কথাগুলে বলছিল বাই-সাইকেল পাওয়া শিক্ষার্থী সামিয়া । শুধু সামিয়াই নয় বাই সাইকেল পেয়ে এমন আত্মবিশ্বাস পেয়েছে ৩৫৫ জন কন্যা শিক্ষার্থী।
গোপালগঞ্জের কন্যা শিক্ষার্থীদের লেখাপাড়ায় মনোনিবেশ ও নিজেদেরকে আত্ম-নির্ভরশীল করে তুলতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫৫ জন নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বাই-সাইকেল বিতরন করা হয়। “আপন আলো জ্বালো” প্রতিপাদ্যে “আমি অদম্য, আমি সাহসী, আমি দিশারী, আমি স্বপ্নেভরা এক কিশোরী” এ প্রত্যয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কন্যা শিক্ষার্থীদের হাতে বাই-সাইকেল তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাদিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাই-সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: সায়াদ উদ্দিন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরুন্নাহার, সহকারী কমিশনার ভুমি মো: মানোয়ার হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মামুন ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, মো: কামরুল ইসলাম বাবুল, প্রধান শিক্ষক মো: আনিচুর রহমান, শিক্ষার্থী মেহেরুন ইসলাম রুম্পা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
বাই সাইকেল পাওয়া অপর শিক্ষার্থী জলি খানম, জান্নাতুল ফেরদৌস, রেশমা খানম, চুমকী দাস, শাকিবা খানম, অন্তরা সরকার বলেন, বাসা থেকে স্কুলের অনেক দূরত্ব হওয়ায় সময় মত স্কুলে যেতে পারতাম না। ফেল ঠিক মত ক্লাশ করতে না পায় পড়ালেখায় ক্ষতি হয়। এত আর হবে না। সময়মত স্কুলে যাবার পাশাপশি ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারব।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম-শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে জেলার সকল মাধ্যমিক স্কুলে কন্যা শিক্ষার্থীদের বাই-সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা আপন আলোয় জ্বলে উঠবে। জেলার গ্রাম এলাকায় অনেক মেধাবী ও গরীব পরিবারের শিক্থার্থী রয়েছে, যাদের বাড়ি স্কুল থেকে বেশ দুরে। যেকারনে তারা সঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারেনা। তাছাড়া গ্রামের মেয়েরা সাধরনত সাহসী না, যে কারনে তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। বাই-সাইকেল বিতরনে শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারবে, লেখাপড়ায় আরো মনোনিবেশ করতে পারবে। মেয়েরা আত্ম-নির্ভরশীল হবে। তিনি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের কারাতে প্রশিক্ষন গ্রহন করে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত করে বখাটেদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহবান জানান।