গোলাপি বাঁধাকপি প্রথম চাষ হয়েছে যশোরে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

বেনাপোল (যশোর):
যশোরে গোলাপি বাঁধাকপি একেবারেই নতুন সবজি। এ সবজির চাষও হয়েছে এবারই প্রথম। চুড়ামনকাটি হৈবতপুর এলাকার পোলতাডাঙ্গা মাঠে মাস চারেক আগে গোলাপি বাঁধাকপি চাষ করেন কৃষক আমিন উদ্দীন। তার ক্ষেতে ভাল ফলন দেখে একই গ্রামের আরো ১০ থেকে ১২ কৃষক নতুন এই সবজি চাষ করেছেন।
অন্য বাঁধাকপির মতো বীজ রোপণের ৪৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল আসা এবং ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে সবজিটি বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়।
আমিন উদ্দীন জানান, গত মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৪টি গাছ রোপণ হলেও তিনি এখন অন্যান্য সবজির মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। তিনি এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দুই বিঘা জমিতে পিংক ক্যাবেজ (গোলাপি বাঁধাকপি) চাষ করেছেন। তার জমিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি ৪৫ হাজার টাকার মতো এই সবজি বিক্রি করেছেন। জমিতে যে সবজি আছে, সেগুলো বিক্রি করতে পারলে আরো দেড় লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি আরো জানান, পিংক ক্যাবেজের বাজারে পাইকারি মূল্য ২২ টাকা। এই সবজির এতো চাহিদা এবং গুণাগুণ কোনোদিন বাজারে নিয়ে বিক্রি করা লাগেনি। যশোর জেলা সহ আশপাশের ব্যবসায়ীরা পাইকারি মূল্যে ক্ষেত থেকে এই সবজি নিয়মিত নিয়ে যাচ্ছে। গোলাপি রঙের এই সবজি চাষ করে তার মতো অনেক চাষি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন জাতের পিংক ক্যাবেজ বাঁধাকপি এই এলাকায় ৪ হেক্টর জমিতে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে। তবে গত মৌসুমে আমিন উদ্দীন পরীক্ষামূলক উৎপাদন করে অনেক চাষির নজর কেড়েছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদেরকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। আগামীতে চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, যশোর জেলার আট উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছে। তবে জেলায় নতুনভাবে পিংক ক্যাবেজ চাষ শুরু হয়েছে। সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে এই সবজিতে বেশি দাম পাচ্ছেন চাষি। আবার ওজনেও বেশি। তাছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধে এই সবজিতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান রয়েছে। এটা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ত্বক সুন্দর রাখে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code