গ্রামের মানুষকে ঘরে আটকানো যাচ্ছে না

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে দেশকে প্রায় লকডাউন করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে না যেতে সরকারী ভাবে বলা হলেও গ্রামবাসীর চালচল প্রায় পুর্বের ন্যায় স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে শহরের তুলনায় সংক্রামনের ভয়াবহতা গ্রামে বেশি ছড়ানোর শঙ্কা।
সকাল বিকেল দুপুর রাত সব সময় গ্রামীন হাট বাজার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দোকানে এখনো মানুষের ভির। শহরের লোকজন সাবধান হলেও সচেতনতার লেসটুকুও নেই গ্রামীন জনপদে। প্রশাসনের লোকজন এলে ভোঁড় দৌড়ে ছত্রভঙ্গ হলেও পরক্ষনেই আড্ডায় মেতে উঠছে গ্রামবাসী। প্রায় প্রতিদিনই হাটবাজারগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কিছু ব্যবসায়ীর জরিমানা আদায় করছেন প্রশাসন। দিনমজুর শ্রমজীবি ও ছিন্নমুল মানুষদের জন্য সরকারী ভাবে ত্রান সহায়তা দেয়া হলেও মানুষকে ঘরে আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে সীমান্তবর্তি জেলা লালমনিরহাটের গ্রামগুলোতে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীন জনপদ ঘুরে দেখা গেছে, পুর্বের মত বাহিরে ঘোরাফেরা অব্যহত রয়েছে গ্রামে। গ্রামের মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার, সড়কের মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে মানুষের খোঁশ গল্পের আড্ডা। এসব আড্ডায় করোনাভাইরাস সংক্রামন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চললেও নেই তাদেও মাঝে সচেতনতা। এ গ্রাম সে গ্রাম বা এ পাড়া সে পাড়ায় অবাদের ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষ। ভিক্ষাবৃত্তিও বন্ধ হয়নি। যদিও ভিক্ষুকদের বাড়ি বাড়ি ১০দিনের খাবার পৌছে দেয়ার দাবি করছে প্রশাসন। এ ছাড়াও সরকারী ভাবে ছিন্নমুল মানুষদের জন্য দুইশত মেঃটন জিআর চাল ও নগদ ১০লাখ ৩৫ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্ধ বিতরন করছে জেলা ত্রাণ শাখা। মজুদ রয়েছে ৩০৭ মেঃটন চাল ও ৩লাখ ৭৭হাজার ৫শত টাকা।

Manual2 Ad Code

হাট বাজারের বিষয়ে কৃষিপন্য হিসেবে তামাক ক্রয় বিক্রয় অব্যহত রয়েছে। এসব তামাক হাটে সমাগম ঘটে কয়েক হাজার মানুষের। সরকারী ভাবে বলা হয়েছে কৃষিপন্য হিসেবে তামাক ক্রয়বিক্রয় অব্যহত থাকবে। সেক্ষেত্রে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট হাটের ইজাদার ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

Manual1 Ad Code

ছুটি পেয়ে গ্রামে চলে আসা ঢাকা বা চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা ফেরত মানুষরাও মানছেন না হোম কোয়ারেন্টিন কিংবা সামাজিক দুরুত্ব। ফলে গ্রামের পরিবেশ অনেকটাই শ্বঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা দাবি করছেন, সামাজিক দুরুত্ব তৈরী করতে ব্যর্থ হলে করোনাভাইরাস সংক্রামনে ভয়াবহতা দেখা দিতে পারে। এখনো সময় আছে মানুষকে সচেতন করে স্বাস্থ্যবার্তা মানতে বাধ্য করতে হবে।

Manual5 Ad Code

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা.নির্মলেন্দু রায় সাংবাদিককে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রামন রোধে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকাফেরতরা মানছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যা সংক্রামিত করতে পারে। এজন্য সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখা জরুরী বলে দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বিক্রয় যোগ্য পন্যের দোকানেও সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে হবে। তামাকের ক্ষেত্রে অনেক জায়গা লাগে তাই ইজারাদার ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পাশ্ববর্তি বিদ্যালয়/খেলার মাঠে সামাজিক দুরুত্বের হাট বাজার বসানোর বিষয়টিও ভাবছে জেলা প্রশাসন। সচেতনতায় প্রচারনার পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে রয়েছে। তবে বৃহত্তরস্বার্থে খুব দ্রুত কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে না আসতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code