

যুক্তরাষ্ট্র অফিস:
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আধিপত্য নিশ্চিত করতে আর্থিক এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারেও পিছপা হবেন না বলে কিছুদিন আগে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ভূখণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের বা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এই প্রথমবার সামনে আসেনি। প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। এর বহু আগে আরও মার্কিন প্রেসিডেন্টও নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের ট্রাম্পের হুমকি বিশ্বের নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের পক্ষ থেকে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় বসার আগেই তার এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের নেপথ্যে কী রয়েছে নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খনিজ সম্পদের সম্ভাব্য বিপুল ভাণ্ডার ও ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই ট্রাম্পের কাছে গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাদা চাদরে ঢাকা সবুজ ভূমি
কানাডার উত্তরপূর্বে আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান। ডেনমার্কের আধাস্বায়ত্বশাসিত বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটিতে মাত্র ৬০ হাজার মানুষের বাস। ১৭২১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত বরফাচ্ছাদিত এই অঞ্চল ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে কোপেনহেগের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পায় গ্রিনল্যান্ড। ২০০৯ সালে সেখানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের অধিকার চালু হয়।
বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু পরিবর্তন পোর্টাল অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বরফাচ্ছাদিত, যা কোথাও কোথাও প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখানকার বরফ গলছে আশঙ্কাজনকভাবে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী ডেভিড হল্যান্ড বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অংশের চেয়ে এখানকার উষ্ণতা চারগুণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারে নজর
গ্রিনল্যান্ডের টনকে টন বরফের নিচে লুকিয়ে আছে মূল্যবান ইউরেনিয়াম, যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়াম, কয়েকশ কোটি বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক বিশাল সমারোহ। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সম্পদের এই বিশাল ভাণ্ডার হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে পরাশক্তিগুলো।
ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৩ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, অতিগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ৩৪টি খনিজ উপাদানের অন্তত ২৫টি রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে। এর মধ্যে রয়েছে লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌল। লিথিয়ামের বাজারে আধিপত্য রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, চিলি ও চীনের। বর্তমান বিশ্বে অতিগুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রায় ৭০ শতাংশের সরবরাহকারী চীন।
লন্ডন ইউনিভার্সিটির ভূরাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ক্লাউড ডডস বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল সম্পদ ট্রাম্পের আগ্রহের একটি বড় কারণ হতে পারে।