ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস: ক্ষয়ক্ষিত এড়াতে প্রস্তুতির বিকল্প নেই

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

সম্পাদকীয়:

Manual4 Ad Code

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ‘অতি প্রবল শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, ২৬ মে নাগাদ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে এটি। গবেষকদের মতে, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ সম্পর্কে আগাম বার্তা প্রদান করা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যে সতর্কবার্তা প্রদান করেন, তা মানার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ থেকে দূরবর্তী এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। কখনো কখনো লক্ষ করা গেছে, সাগরে থাকাকালে ঘূর্ণিঝড়ের যে শক্তি ছিল, উপকূলের কাছাকাছি আসার পর তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কোনো ঘূর্ণিঝড় ‘সুপার সাইক্লোনে’ রূপ নিলেও তা যাতে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায় তেমন প্রস্তুতি নিতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্গতদের খাবার, পানীয়সহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে দুর্গতদের ঘরবাড়ি-গবাদিপশু রক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনার এ সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ইয়াস নিয়ে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হচ্ছে সময় এবং এর আকৃতি। বুধবার পূর্ণিমার সময় ইয়াস অতি শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। যদি বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানে, তাহলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত স্রোত আসতে পারে। কারণ ওই সময়ে ফিরতি জোয়ার শুরু হবে।

Manual8 Ad Code

যদি এমনটি ঘটে তাহলে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা সাগরের লবণপানিতে ভেসে যেতে পারে। ইয়াসের বিশালাকৃতির আয়তন নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। বস্তুত ঘূর্ণিঝড়টি কতটা তাণ্ডব চালাবে এ নিয়ে এখনো কিছু অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে এটি পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় আঘাত হানলেও বিশালাকায় আকৃতির কারণে বাংলাদেশের গোটা উপকূল বা খুলনা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এালাকায় বিস্তৃত হতে পারে।

বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন জরুরি হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিতে থাকা সব মানুষকে যথাসময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে। দুর্গম বিচ্ছিন্ন চরের মানুষকেও যথাসময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বনে কোনো রকম অবহেলা করা হলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাবে।

প্রায় প্রতি বছরই পরপর আমাদের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই উপকূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরও উপকূলীয় এলাকার জনগণকে নানা রকম সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code