চাঁদাবাজির অবসান ঘটাতে হবে

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়:

বিগত সরকারের আমলে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জায়গায় চাঁদাবাজির বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনায় এলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আমরা দেখিনি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভুক্তভোগীরা এখন মুখ খুলছেন। বিশেষ করে নবগঠিত অর্থনৈতিকসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কাছে এমন সব অভিযোগ আসছে, যা একদিকে রোমহর্ষক, অন্যদিকে বেদনাদায়কও বটে। বুধবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, টাস্কফোর্স গঠনের পর এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি চাঁদাবাজি ও ঘুসসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ জোরালোভাবে উঠে আসে। সে সভায় বিভিন্ন খাতের, এমনকি ইউটিউবারদেরও ডাকা হয়েছিল। এ সময় অনেকেই চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।

Manual2 Ad Code

স্বীকার করতেই হবে, বিগত সরকারের আমলে লোকদেখানো ছাড়া আদতে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দুঃখজনক হলো, অবৈধ চাঁদাবাজির সঙ্গে কেবল বিশেষ কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত নয় অথবা বিষয়টি কোনো একটি জেলা বা অঞ্চলের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। আশার কথা, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চাঁদাবাজি ও ঘুস লেনদেন বন্ধে একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ‘গুন্ডা প্রতিরোধ স্কোয়াড’ গঠনের সুপারিশ করতে যাচ্ছে টাস্কফোর্স। জানা গেছে, হাট-বাজার, ঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র এ স্কোয়াড এমনকি সরকারি সেবা পেতে অনৈতিক লেনদেন বা ঘুস বন্ধেও কাজ করতে পারবে। এ খসড়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সেবা পেতে (অনলাইনে রেল টিকিট কেনা, পাসপোর্ট ইত্যাদি) অনেক সময় ঘুস দিতে হয়। এ ধরনের অনৈতিক লেনদেনের সমস্যা সরকারি সেবার বাইরে বেসরকারি খাতেও বিস্তৃত হয়েছে। যেমন বাজারঘাট, পরিবহণ ও নির্মাণ খাত। এসব খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে গুন্ডা, মাস্তান ও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে স্কোয়াড কীভাবে কাজ করবে, সেটিও প্রতিবেদনের খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

Manual2 Ad Code

চাঁদাবাজি যে আমাদের সমাজে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিগত সরকারের সদিচ্ছার অভাবে প্রচলিত ব্যবস্থায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা মনে করি, প্রস্তাবিত এ স্কোয়াড চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সফল হবে। তবে এ স্কোয়াড তখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে, যদি তা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা যায়। সেক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক হলেই তা সম্ভব। লক্ষ রাখতে হবে, চাঁদাবাজির সঙ্গে দলমত নির্বিশেষে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, অপরাধ বিচারে তাকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রচলিত আইন মোতাবেক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code