চারঘাট পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় বাধে ফাটল : বিলীনের মুখে মসজিদসহ বসতঘর

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

চারঘাট (রাজশাহী) :
রাজশাহীর চারঘাটে বর্ষা মৌসুমে ব্যপক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মাতীরবর্তী এলাকার বাধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বিলীন হতে চলেছে রাওথার একটি মসজিদ সহ পদ্মাতীরবর্তী এলাকার অসংখ্য বসতবাড়িঘর। এতে আতঙ্কে দিন পার করছে পদ্মা নদী তীরবর্তী গোপালপুর, পিরোজপুর, রাওথা, চন্দনশহর, ইউসুফপুর, টাঙ্গন এলাকার মানুষেরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউসুফপুর ইউনিয়নের টাঙ্গন ও রাওথা গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হতে চলেছে উপজেলার চারঘাট ইউনিয়নের রাওথা গ্রামের একটি মসজিদ। রাওথা গ্রামের দত্তপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী মনোয়ারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থায়ী পাকা বাধ নির্মানে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। একই গ্রামের জামালের স্ত্রী মজিফা বলেন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, পাকা বাধ নির্মান করে এলাকাবাসীকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। একই চিত্র দেখা যায় টাঙ্গনের নদীতীরবর্তী এলাকায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িক বাধ রক্ষা না করে স্থায়ী পাকা ও টেকশই বাধ নির্মান করা যাতে করে নদীতীরবর্তী গ্রাম বাসীরা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পায়।
উল্লেখ্য যে, চারঘাট সীমানায় পদ্মার প্রায় ২০ কি:মি: দীর্ঘ তীরবর্তী এলাকা রয়েছে যার অধিকাংশ তীরবর্তী জায়গায় মানুষ বসবাস করে। এই নদীতীরবর্তী এলাকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থান যেমন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের কয়েক কি:মি: এলাকা ব্লক দিয়ে পাঁকা বাধ দেয়া থাকলেও অধিকাংশ তীরবর্তী এলাকা অরক্ষিত বা কাঁচাবাধ। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাঁচা বাধে ফাটল দেখা দেয়। কোন কোন সময় বাধ ভাঙ্গন ধরলে বালু ভর্তি জিওবি ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে কাচাঁ বাধ রক্ষার জন্য চেষ্টা করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে বাধ রক্ষায় তা অকার্যকর।
নদীতীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন বর্ষা মৌসুমের পানি বৃদ্ধির সময় বাধ ভাঙ্গন বা ফাটল ধরলে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পাকা বাধ তৈরি আশ^াস দিলেও পাকা বাধ নির্মানের জন্য কোন উদ্যোগ দেখা যায় না। এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, নদী তীরবর্তী মানুষদের রক্ষার্থে একনেকে ৭ শত ২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়েছে। আগামী আগষ্ট মাসে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁেধর কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা করেন।
উজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ফকরুল ইসলাম বলেন, আমি ইতিমধ্যে ইউএনওকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গন ও রাওথায় পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। রাওথার মসজিদ সংলগ্ন কাঁচাবাধ ভাঙ্গন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং যা ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক স্থানীয় সংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহারিয়ার আলমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে চারঘাট-বাঘায় প্রায় ১২ কিমি ড্রেজিংসহ টাঙ্গন, রাওথা, মিরগঞ্জ, আলাইপুর ও বকুলপুরের প্রায় সাড়ে ৩ কিমি বাধ নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে, এবং প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীরা সুফল ভোগ করবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code