চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

সম্পাদকীয়: অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। চাল থেকে শুরু করে সব নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দরে। শিশুখাদ্যের দামও আকাশছোঁয়া। উদ্বেগজনক হলো, দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গত এক বছরেরও বেশি সময় চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
লক্ষ করা যাচ্ছে, চালের দাম কমাতে সরকারের সব উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। স্বল্পমূল্যে ওএমএস চালু এবং আমদানি শুল্ক কমানোর পরও মিলারদের কারসাজিতে ফের চালের দাম বাড়ছে। চাল নিয়ে দেশে এ ধরনের জটিলতা গত এক যুগে কখনোই তৈরি হয়নি। গত বোরো, আউশ ও আমন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
দুই দফা শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। অনুমোদনের দুই মাস পর আমদানিকারকরা মাত্র কিছু পরিমাণ চাল আমদানি করেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবেও চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, মানুষকে জিম্মি করে চালবাজরা আর কতদিন অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাবে?
দুঃখজনক হলো, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা একেবারেই দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
এসব ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব কেন? অসহায় ক্রেতারা এখন অনেক জরুরি পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো আমদানিকারক আমদানির শর্ত অমান্য করলেও তার বিরুদ্ধেও সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শুধু শর্ত ভঙ্গ নয়, সরকারি অনুমোদন নিয়ে চাল আমদানির নামে রীতিমতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না।
বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের সব ব্যবসায়ীকে কঠোর জবাবদিহিতায় আনা না গেলে চালের বাজারের অস্থিরতা কমবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।মানুষ তার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করে খাদ্যপণ্য খাতে। এর মধ্যে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ চাল কিনতেই সবচেয়ে বেশি অর্থব্যয় করে থাকে। কাজেই চালের দামের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে এসব মানুষের জীবনমান। এ অবস্থায় চাল নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি চলতে দেওয়া উচিত নয়। চালের বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের নমনীয়তার বিষয়টি দুঃখজনক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code