

সম্পাদকীয়: করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক মন্দার পাশাপাশি দেশীয় প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতে বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্বেগজনক হলো, এরই মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সব সূচকে নেতিবাচক অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা আগামী বছর বিশ্বব্যাপী ভয়ানক মন্দার শঙ্কা প্রকাশ করে ব্যাংক খাতেও এর প্রভাব পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি রোধে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ, সুদের হার বৃদ্ধি, মুদ্রা বিনিময় হারে অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে ব্যাংক খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতে ২০০৮ সালে ধস নামার মধ্য দিয়ে যে মন্দার সূচনা ঘটেছিল, তার প্রভাবে প্রথমেই ধসে পড়েছিল দেশটির ব্যাংকগুলো। ব্যাংক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দেশটিতে সরকারের তহবিল থেকে তখন লাখ লাখ কোটি ডলার প্রদান করতে হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের কি এ ধরনের সক্ষমতা আছে? উত্তর হচ্ছে-না, নেই। তার মানে বিপর্যয় রোধে আমাদের আগেভাগেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে পরে আর তা সামাল দেওয়া যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রধান দুটি উৎস-ঋণ ও সম্পদের সুদ থেকে আয়ের পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় পরিস্থিতিও আশানুরূপ নয়। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রষ্ঠিানগুলো ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছে বটে; কিন্তু আদায়ের হার খুবই নগণ্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-বাংলাদেশে ঋণ পরিশোধে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা চলতে থাকলে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে তারল্য সংকটে পড়তে পারে; এমনকি কিছু ব্যাংক দেউলিয়াও হতে পারে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত হলে তা অর্থনীতির জন্য আরও খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে, যার শিকার হবে মূলত দেশের সাধারণ মানুষ। এজন্য এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।