

সম্পাদকীয়: পবিত্র রমজানে ব্যবসায়ীরা নীতি-নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে আগ্রহী হবেন, এটা প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবে তা লক্ষ করা যায় না। বরং প্রতিবছর রমজান শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার মাত্রাতিরিক্ত অস্থির করে তোলে। আবার রমজানের ঠিক আগমুহূর্তে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবসায়ীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কোনো পণ্যের দাম নামমাত্র কমিয়ে দেয়। বছরের পর বছর চলছে তাদের এ অপকৌশল। এভাবে ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ভোক্তার পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ।
এবারও সেই চক্রটি একই কৌশল অবলম্বন করছে। রমজাননির্ভর পণ্যের দাম দুই মাস আগেই বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অসাধুদের এই কৌশল ওপেন সিক্রেট হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। কর্তৃপক্ষ লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যায় তাদের অপকর্ম। এ অবস্থায় ভোক্তাদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রমজানের সময় এবং এর আগে-পরে।
চলতি বছর ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার অস্থির থাকবে, এটি অনেক আগেই ধারণা করা গেছে। ডলার সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি-এসব কারণে চলতি বছর ভোগ্যপণ্যের বাজারে কতটা চাপ থাকবে, তাও অনুমেয়। এ প্রেক্ষাপটে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে বছরব্যাপী অভিযান চালানো না হলে ভোক্তাদের দুর্ভোগের অবসান হবে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেহেতু মাত্রাতিরিক্ত কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছে, সেহেতু বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে সেই অনুপাতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।