চিরবিদায় সাংবাদিক শামীমা নাসরীন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

পজিটিভ নেটওর্য়াক ইউএস:

চির অনন্তের পথে যাত্রা করলেন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশন জগতের অন্যতম সংবাদ উপস্থাপক শামীমা নাসরীন। কানাডায় বসবাসরত কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক সৈকত রুশদী তার ফেইসবুকে লিখেছেন,আমরা সহকর্মী ছিলাম এক সময়ে।

১৯৭০ থেকে ১৯৯০ দশক পর্যন্ত বেতার ও টেলিভিশনের সুপরিচিত কণ্ঠ ও মুখ শামীমা নাসরীন ,শুক্রবার ,৮ ডিসেম্বর ২০২৩,যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।

Manual6 Ad Code

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ বেতার (তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ)-এর জনপ্রিয় ম্যগাজিন অনুষ্ঠান ‘উত্তরণ’-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশন জগতে আমার পদার্পণ।

সেই ‘উত্তরণ’-এর প্রযোজক ছিলেন আলফাজ তরফদার (Alfaz Tarafder)। উপস্থাপক (বর্তমানে প্রয়াত) শফি কামাল। গ্রন্থনা করতেন বর্তমানে ভয়েস অব আমেরিকায় (VOA) কর্মরত আনিস আহমেদ (Anis Ahmed)।

আর ‘উত্তরণ’-এ অংশ নিতেন প্রয়াত ফরহাদ খান, আবৃত্তিকার স্থপতি প্রয়াত কাজী আরিফ, প্রয়াত শামীমা নাসরীন, প্রয়াত লুবনা জাহান, রায়হান গফুর, প্রজ্ঞা লাবণী (Progga Laboni), শরফুজ্জামান মুকুল এবং আরও কয়েকজন।

আগে থেকেই সম্ভবতঃ ছিলেন মনোয়ারা খাতুন ও সালেহ আকরাম। আমার পরে যোগ দেন বাংলা ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘মানবজমিন’-এর বর্তমান সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। মাহবুবা আমার ব্যাচমেট।

এসকল গুণী ব্যক্তিদের সাহচর্যে আমার দীক্ষা ও শিক্ষা।

Manual2 Ad Code

বিশেষ করে, আলফাজ তরফদার, প্রজ্ঞা লাবণী ও শামীমা নাসরীনের পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার জন্য। সরাসরি সম্প্রচারে অংশগ্রহণের ভীতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে তাঁদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা।

আমার সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ তারুণ্যে সরাসরি সম্প্রচারে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য এই তিন জনের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

শাহবাগে বাংলাদেশ বেতার কার্যালয় ছাড়াও শামীমা আপার সাথে দেখা হতো মাঝে মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে।

সেই সময়ে শামীমা আপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমি ছিলাম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আনিস আহমেদ ভাই সম্ভবতঃ তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ছিলেন ইংরেজি বিভাগে।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশে বেতারে ‘উত্তরণ’-এ অংশগ্রহণ এবং মুদ্রণ মাধ্যমে পাঁচ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১৯৮৩ সালে আমার প্রথম ব্রিটেন সফরকালে আমি সাহস করে লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস-এর বাংলা বিভাগে কাজ করতে চাই।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে এবং কণ্ঠস্বর পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণও হই। তখন আমার বয়স তেইশ। বছর দুয়েক কাজ করি বিবিসি বাংলা বিভাগের লন্ডন সদর দফতরে।

আজ শামীমা আপার প্রয়াণের দিনে মনে পড়ছে ৪৫ বছর আগে গণমাধ্যমে আমার যাত্রা শুরুর সেইসব অমূল্য দিনগুলির কথা।

প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন মরহুমা শামীমা নাসরীন-এর রূহকে জান্নাতুল ফেরদৌসে চিরশান্তি প্রদান করেন।

bunsbd/এনএস

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code