চীনের প্রত্যন্ত তৃণভূমিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশাল কম্পিউটিং কেন্দ্র

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩৮ minutes ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে গাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে মহাপ্রাচীর পেরিয়ে পৌঁছানো যায় ইনার মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমিতে। চীনের দ্রুত বিকাশমান উপকূলীয় শহরগুলো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন এ অঞ্চলে এখন গড়ে উঠছে বিশাল ডেটা সেন্টার। একসময় চীনের ‘আলুর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত একটি শহরে আকাশ ছুঁতে চাওয়া নির্মাণক্রেনের সারি এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগমন এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শহরটির নাম উলানচাব। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের এ শহর বিশ্বজুড়ে কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নতুন সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ উলানচাব। দুই বছরেরও কম সময়ে ইনার মঙ্গোলিয়ার কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার পেটাফ্লপসে। এ সময় অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছে বড় বড় ডেটা সেন্টার।

বিভিন্ন কারণে এ রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। এখানকার আবহাওয়া বছরের প্রায় ১০ মাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সার্ভার র্যাক স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখার সুযোগ দেয়। বিস্তীর্ণ বায়ুপ্রবাহপ্রবণ তৃণভূমিতে বিপুল পরিমাণ বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম প্রায় ০.৩৫ ইউয়ান বা ৫.২ মার্কিন সেন্ট পর্যন্ত নেমে এসেছে। এ ছাড়া বেইজিংয়ের কাছাকাছি হওয়ায় তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব পাঁচ মিলিসেকেন্ডেরও কম, যা নির্বিঘ্নে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ফলাফল তৈরিতে সহায়তা করে।

তবে ইনার মঙ্গোলিয়া শুধু ‘ডেটা সেন্টারের জমির মালিক’ হয়ে থাকতে চায় না। অঞ্চলটি অর্থনৈতিক মূল্যশৃঙ্খলের আরও উঁচুতে উঠতে চাইছে। পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি টোকেন লেনদেন এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগের কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

তৃণভূমিতে প্রযুক্তি নগরীর উত্থান

উলানচাব চাহার হাই-টেক উন্নয়ন অঞ্চলে শহরটির এ নতুন উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে পাশাপাশি রয়েছে ‘অ্যাপল বুলেভার্ড’, ‘আলিবাবা বুলেভার্ড’ ও ‘হুয়াওয়ে বুলেভার্ড’। এখানে কার্যক্রম শুরু করা তিনটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নামে সড়কগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাইটড্যান্স, কুয়াইশৌ ও ভিনেট গ্রুপের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এখানে কার্যক্রম শুরু করেছে।

চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনে সড়কগুলো সরগরম। শ্রমিকদের কথাবার্তায় শোনা যায় দেশের নানা অঞ্চলের আঞ্চলিক টান। দুপুরের দিকে নির্মাণস্থলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান বসে; সেখানে বিক্রি হয় প্যাকেটজাত খাবার, ফল ও পানীয়।

উন্নয়ন অঞ্চলের প্রশাসনিক কমিটির উপপরিচালক লিউ জুনপিং বলেন, ‘শুধু এ হাই-টেক অঞ্চলেই বর্তমানে কম্পিউটিং সক্ষমতাসংক্রান্ত ২২টি প্রকল্প নির্মাণাধীন। এসব প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার নির্মাণশ্রমিক কাজ করছেন।’

ভিনেট গ্রুপের উলানচাব কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ঝৌ ইগুয়াং বলেন, ‘২০২২ সালে যখন আমি এখানে জায়গা দেখতে এসেছিলাম, তখন এলাকাটি ছিল প্রায় জনমানবহীন। মাঝেমধ্যে বালুঝড়ও বয়ে যেত।’

ভিনেট গ্রুপ উলানচাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ মু বা প্রায় ৭৩ হেক্টর জমিতে একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এর প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

এ পরিবর্তন শুধু উলানচাবেই সীমাবদ্ধ নয়। ইনার মঙ্গোলিয়া সামগ্রিকভাবেই কম্পিউটিং সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক রাজধানী হোহহটও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চীনের শীর্ষ ৩০টি বেসরকারি কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২০টি ইনার মঙ্গোলিয়ায় কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২ হাজার ৯৭৫ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া চীনের শীর্ষ ১০টি কম্পিউটিং সেবা প্রদানকারীর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানও এখানে কার্যক্রম স্থাপন করেছে।

Manual8 Ad Code

পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পথে

বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। কম্পিউটিং স্থাপনা চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সার্ভার র্যাক অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিপুল পরিমাণ পানিও লাগে। চীনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরে অগ্রগামী ইনার মঙ্গোলিয়া এ কারণে পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পথ অনুসরণ করছে।

শুধু উলানচাব শহরেই ২০২৫ সালে কম্পিউটিং শিল্পে ৪৩০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৬ সালে এ পরিমাণ বেড়ে ৯০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরে আরও অনেক কম্পিউটিং কেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়বে।

বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু ‘বিদ্যুৎ কেনা’ থেকে এগিয়ে ‘বিদ্যুতের জন্য প্রতিযোগিতা’ এবং এমনকি ‘নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের’ দিকেও ঝুঁকছে। অন্যদিকে, চীন তার বিশ্বমানের বিদ্যুৎ গ্রিড, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি সংরক্ষণশিল্পকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটিং সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমন্বিত ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাচ্ছে। এ ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘কম্পিউটিং-বিদ্যুৎ সমন্বয়’।

Manual5 Ad Code

উলানচাব চাহার হাই-টেক উন্নয়ন অঞ্চলে একটি শূন্য-কার্বন শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পার্কে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা একটি সমন্বিত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকার সম্মিলিতভাবে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামো গড়ে তুলবে এবং সেখান থেকে পার্কের পৃথক কম্পিউটিং কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

Manual3 Ad Code

উলানচাব পৌর উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের উপপরিচালক চেন ঝিগাং বলেন, শিল্পপার্কের আশপাশে প্রায় ১০ গিগাওয়াট বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এ সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে বছরে ৩০০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে চাহিদা বৃদ্ধির বড় অংশ পূরণ করতে পারবে।

শূন্য-কার্বন শিল্পপার্কের নির্মাণ শেষ হলে এর মোট বিদ্যুতের ৮০ শতাংশের বেশি সরাসরি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে। হোহহটের হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ায় চালু থাকা কম্পিউটিং কেন্দ্রগুলোও বর্তমানে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৮৫ শতাংশ সবুজ জ্বালানি থেকে মেটাচ্ছে।

পানি এ খাতের আরেকটি সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা। তবে পানিসাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এ চাপ কমাতে সহায়তা করছে। এসব প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে পানি ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম ফ্লুরিন-পাম্প এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা এবং বদ্ধ শীতলীকরণ টাওয়ার।

উদাহরণ হিসেবে ভিনেট গ্রুপের উলানচাব ক্লাউড কম্পিউটিং কেন্দ্রের কথা বলা যায়। এখানে বছরের প্রায় ১০ মাস বাইরে থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু গ্রীষ্মের সবচেয়ে গরম দিনগুলোতে স্প্রে ব্যবস্থা চালু করা হয়।

ভিনেট গ্রুপের উলানচাব কার্যালয়ের কারিগরি পরিচালক লি ই বলেন, ‘কম্পিউটিং কেন্দ্রে শীতলীকরণের কাজে ব্যবহৃত সব পানিই পুনর্ব্যবহৃত পানি। এতে স্থানীয় প্রাকৃতিক পানিসম্পদ বা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না।’

উলানচাবের পানি সম্পদ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিধিমালার আওতায় ডেটা সেন্টারগুলোকে শীতলীকরণের কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ২০২৫ সালে শহরটির বড় ডেটা কোম্পানিগুলো ১৫ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পানি ব্যবহার করেছে, যা শহরের মোট পানিব্যবহারের মাত্র ০.৩৩ শতাংশ। এদিকে, শহরটিতে বছরে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি উৎপাদিত হয়।

‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ থেকে টোকেন অর্থনীতির কেন্দ্রে

কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা এক বিষয়, আর তা কাজে লাগিয়ে উচ্চমূল্যের এআই অর্থনীতি গড়ে তোলা আরেক বিষয়। উলানচাবের বিগ ডেটা প্রশাসনের উপপরিচালক লিউ হুয়ানসুও সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি শুধু সস্তা বিদ্যুৎ ও কম জমির দামের ওপর নির্ভর করি, তাহলে শেষ পর্যন্ত ‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ হয়েই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

এ উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কম্পিউটিং অর্থনীতির উচ্চমূল্যের অংশ– চিপ, অ্যালগরিদম ও এআই মডেল– এখনো অনেকাংশে ইনার মঙ্গোলিয়ার নাগালের বাইরে।

উলানচাবের অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরটির কম্পিউটিং শিল্প ৬৮৩ কোটি ৫০ লাখ ইউয়ান আয় করেছে এবং ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ান কর রাজস্ব দিয়েছে। প্রতি ১০০ মু বা প্রায় ৬.৭ হেক্টর জমিতে একটি কম্পিউটিং কেন্দ্র গড়ে উঠলে আনুমানিক ১০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

তবে অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং গড়ে তোলা বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতার তুলনায় এ আয় ও কর্মসংস্থানের সুফল এখনো সীমিত।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইনার মঙ্গোলিয়া অর্থনৈতিক মূল্যশৃঙ্খলের আরও উঁচুতে উঠতে চাইছে। ‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ থেকে ‘টোকেনের রাজধানী’ হয়ে ওঠার পাশাপাশি নিজস্ব এআই প্রয়োগের একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে অঞ্চলটি।

গত ৩০ মে ইনার মঙ্গোলিয়ার টোকেন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম শুরু করে। চীনের প্রথম পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ উদ্যোগটি হোহহটের হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ায় চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টোকেন লেনদেনকেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে হোহহট।

হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ার প্রশাসনিক কমিটির উপপরিচালক গুও জুইং বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে কাঁচা কম্পিউটিং সক্ষমতাকে এমন একটি বাণিজ্যযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা, যা পরিমাপ করা যাবে, এর মূল্য নির্ধারণ করা যাবে এবং শেষ পর্যন্ত উচ্চমূল্যের এআই সেবায় রূপ দেওয়া যাবে।

Manual6 Ad Code

তিনি এ পরিবর্তনকে ‘বিদ্যুৎ বিক্রি’ থেকে ‘টোকেন বিক্রির’ দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। কারণ, এআইয়ের প্রতিটি কথোপকথন বা মডেলের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ও ব্যবহৃত টোকেনের সংখ্যা দিয়ে কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার পরিমাপ করা সম্ভব।

উলানচাবেরও এ বিষয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শহরটি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে ‘টোকেনের রাজধানী’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টোকেন উৎপাদন, লেনদেন ও প্রয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে বিভিন্ন খাতে

এআই প্রয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে। হোহহট দুগ্ধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জীবপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০০টি এআই প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। স্মার্ট পশুচারণভূমিতে গবাদিপশুর মুখমণ্ডল শনাক্ত করার একটি ডেটাবেজ ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অল্প সময়ে কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ইনার মঙ্গোলিয়া। তবে এখন এ অবকাঠামোকে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিপণ্য, সেবা ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই অঞ্চলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারলে চীনের অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code