চুনারুঘাটে ছুরিকাঘাতে নিহত রাব্বির পরিবারে ছিলো না ঈদের আমেজ!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: গতকাল ঈদ-উল-ফিতরের মতো আনন্দের দিনেও রাব্বির পরিবারে ঈদের কোনো আমেজ ছিলো না ।পরিবারের বড় সন্তানকে অকালে হারিয়ে মা-বাবা দিশেহারা। বড় ভাইকে হারিয়ে ছোট তিন ভাই বোন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। ঈদের আনন্দের বদলে বাড়িতে শোকের মাতম। মাদক পাচারে প্রতিবাদ করায় তারা রাব্বিকে ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।

সরেজমিন রাব্বির বাড়িতে গেলে কথা হয় তার মায়ের সাথে। রাব্বির মা ফিরোজা বেগম তার ছেলের কথা বলছেন আর বিলাপ করছেন। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, রাব্বি ঈদের জন্য আগেভাগেই সেমাই চিনিসহ ঈদের বাজার সদাই করে নিয়ে এসেছিল। সেমাইর প্যাকেটগুলো দেখাচ্ছেন আর আর্তনাদ করছেন। ফিরোজা বেগমের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়। রাব্বি কাজ করতো উপজেলার আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত সনজু চৌধুরীর বাড়িতে। চেয়ারম্যান তাকে নিজের সন্তানের মত লালন-পালন করতেন। রাব্বির আয়-রোজগার দিয়েই তার পরিবারের বেশির ভাগ খরচ চলতো। মাদক কারবারিরা তছনছ করে দিল তার পরিবারকে।

Manual6 Ad Code

জানা যায়, ২০ মে রাত ১ টায় বগাডুবী গ্রামের পরিত্যক্ত রেললাইনে মাদক কারবারি কামাল ও তার দলবল গাজা পাচারের সময় এলাকার চৌকিদারসহ রাব্বির বাবা ফিরোজ মিয়া গাঁজাসহ মোটরসাইকেল আটক করে। এ সময় তাদের দস্তাদস্তি এক পর্যায়ে রাব্বি তার বাবাকে বাঁচাতে গেলে তার উপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে কামালসহ দলবল। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাব্বি দুই দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে।

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে ২৩ মে চুনারুঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন রাব্বির বাবা ফিরোজ মিয়া। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ১৪ মামলার পলাতক আসামি এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নয়ানী গ্রামের কামাল মিয়াকে।এছাড়াও আরও দুই মাদক কারবারিকে আসামি করা হয়। তারা হল ইনাতাবাদ গ্রামের লিটন মিয়া ও বাঘরুক গ্রামের তাহির মিয়া।

এদিকে শনিবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ রাব্বির বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তিনি খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code