

সম্পাদকীয়: তিনটি ভিন্ন ভিন্ন পেশাজীবীর অবরোধ-আন্দোলনের কারণে রোববার চরম দুর্ভোগে পড়েছিল রাজধানীবাসী। তারা নিজ নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি-দাওয়া আদায়ে এ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকরা মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। বস্তুত গত মঙ্গলবার থেকেই তারা এ আন্দোলন করে আসছেন।
পোস্টগ্র্যাজুয়েট (প্রশিক্ষণার্থী) চিকিৎসকরা তাদের ভাতা বাড়ানোর দাবিতে অবস্থান নেন শাহবাগ মোড়ে। আর রেল শ্রমিকরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে এবং লোক নিয়োগে আউটসোর্সিংয়ের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে এফডিসি রেলগেট এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন। এতে ২৫টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। ফলে এর প্রভাব শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই পড়ে।
সড়ক যোগাযোগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবরোধের ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল এ যানজটপ্রবণ রাজধানী। এতে যে কেবল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী পরিবহণ চলাচলেই বিঘ্ন ঘটেছে তা নয়, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচলও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে; ডেঙ্গুজ্বরের এ প্রকোপের সময় যা মোটেই কাম্য নয়। ব্যাহত হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি, দেশে বিভিন্ন পেশাজীবী তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর ফলে জনগণকে যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, সে বিষয়টি তারা আমলে নেন না। অথচ তারা নিজেরা এ জনগণেরই অংশ। বস্তুত জনগণকে জিম্মি করে কোনো কর্মসূচিই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দাবি আদায়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার এ কৌশল অগ্রহণযোগ্য। কোনো সংগঠন বা পেশাজীবীর যৌক্তিক দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে তা আদায়ে এমন কৌশল অবলম্বন করা উচিত নয়, যা নিরপরাধ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দাবি আদায়ে প্রচলিত এ কৌশলে পরিবর্তন আনা তাই জরুরি হয়ে পড়েছে।