জনগণের মাঝে আশা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি হবু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহাম দেশবাসীর মধ্যে নতুন করে আশা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথও নিশ্চিত করলেন। লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, বিশেষ দলীয় সম্মেলনে বার্নহাম বলেন, ‘দেশের মানুষ এবং বিভিন্ন অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে এমন রাজনীতির অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাদের আবারও আশা দেখাবে। আমরা তাদের সেই আশা ফিরিয়ে দেব।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবার জন্য, আমাদের সবার জন্য।’

Manual8 Ad Code

গত মাসে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, নানা বিতর্ক ও একাধিক নীতিগত ব্যর্থতার পর কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলে তার স্থলাভিষিক্ত হন বার্নহাম।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় নতুন নির্বাচন ছাড়াই দলটির নেতা হিসেবে বার্নহামই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।

মাত্র চার সপ্তাহ আগে নয় বছরের বিরতির পর সাবেক ম্যানচেস্টার মেয়র বার্নহাম উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবার সংসদে ফিরে আসেন। এরপর স্টারমারের উত্তরসূরি হওয়ার লক্ষ্যে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামেন তিনি।

আগামী সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের টানা এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের বিশ্বাস, অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় বার্নহামই দলটির সবচেয়ে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়ায় ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহামের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনা হলো বিভিন্ন শহরে আরও বেশি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা। এ লক্ষ্যে তিনি ‘নাম্বার ১০ নর্থ’ নামে একটি কার্যালয় প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে গত চার দশক আমাদের দলের জন্ম দেওয়া অঞ্চলগুলো কিংবা যুক্তরাজ্যের গ্রামীণ ও উপকূলীয় জনপদের জন্য সুখকর ছিল না। তাই আজ আমরা তাদের প্রতি আরও ভালো করার অঙ্গীকার করছি।’

বার্নহামের ভাষায়, ‘যদি আমরা এমন একটি অর্থনীতি ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই, যা সব মানুষ ও সব অঞ্চলের জন্য সমানভাবে কাজ করবে, তাহলে গত ৪০ বছরের পথ থেকে সরে এসে নতুন পথ বেছে নিতে হবে।’

লেবার পার্টির সফট-লেফট ধারার নেতা হিসেবে পরিচিত বার্নহাম জনসেবামূলক খাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং পুনঃশিল্পায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

২০১০ ও ২০১৫ সালে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব লাভ করলেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বার্নহাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

লেবার এমপিদের আশা, স্টারমারের তুলনায় বার্নহাম জনগণের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা সরকারি সেবাখাতে আরও সাহসী সংস্কার আনবেন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি নয়, সমস্যা সমাধানের রাজনীতি প্রয়োজন। বহুদিন ধরে উপেক্ষিত বড় সমস্যাগুলো সমাধানের সাহস আমাদের দেখাতে হবে।’

পুরোনো সংকটই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে

Manual1 Ad Code

বার্নহাম গৃহহীনতা মোকাবিলায় সরকারি আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

১৪ বছর বিরোধী দলে থাকার পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে লেবারকে আবার ক্ষমতায় আনেন কিয়ার স্টারমার। তবে তার শাসনামল দ্রুতই নীতিগত ভুল, বিতর্ক এবং সাবেক জেফ্রি এপস্টেইনের সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে।

গত মে মাসের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের হতাশাজনক ফল স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর ১৮ জুন উপনির্বাচনে বার্নহামের জয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ সুগম করে।

লেবারের ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ৩৭৯ জনের সমর্থন পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন আর কেউ সংগ্রহ করতে পারেননি।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহামকে স্টারমারের মতোই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মন্থর অর্থনীতি, সরকারের উচ্চ ঋণব্যয়ের চাপ এবং ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন, যা রিফর্ম ইউকের প্রতি জনসমর্থন বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতিও তার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বার্নহাম। তিনি ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রধান করগুলো বৃদ্ধি করবেন না।

Manual5 Ad Code

তবে একই সঙ্গে আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনায় প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থঘাটতি পূরণ এবং কল্যাণমূলক খাতের সংস্কারের মতো কঠিন বিষয়ও তাকে সামাল দিতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code