

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য যোগদানকৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ২১ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘পেশাগত জীবনে প্রশিক্ষণ অনেক বেশি অপরিহার্য। চাকরি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এর ভূমিকা অনেক। জীবনের দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই একজন কর্মকর্তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। স্বপ্ন যার যেটাই থাকুক না কেন। এখন যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন সেটিতে পরিপূর্ণ মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’
দেশের প্রথিতযশা এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সন্তানেরা লেখাপড়া করে। এদেরকে দক্ষ মানবসম্পদে রুপান্তর করে বিশ্বে আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ আমাদের রয়েছে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের ঋণ। দুই লাখ মা-বোন নির্যাতন সয়ে সয়ে লাল-সবুজের মানচিত্র উপহার দিয়েছেন। যাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ভালো থাকার জন্য একটি দেশ দিয়ে গেছেন।’
উপাচার্য ড. মশিউর রহমান আরো বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে এই মুহূর্তে উন্নয়নের তুলনায় যুদ্ধ এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ বেশি। কেননা সেই সব সমাজের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে যুদ্ধ এবং মাদককে কেন্দ্র করে। সেই সব জায়গা থেকে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম, উজ্জ্বল, সম্ভাবনাময়। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করা অপরিহার্য। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। কেননা আমাদের সংবিধান সমৃদ্ধ। আদর্শিক জায়গা সমুজ্জল। ’
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথে রয়েছি। এমন একটি অপূর্ব দেশে নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। এজন্য তরুণ নাগরিকদের যোগ্য করে গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র স্বপ্ন। আসুন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করে দেশ, মানুষ ও সমাজ গঠনে ব্রত হই।’
রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সভাপতিত্বে ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক জয়ন্ত ভট্টাচার্য্যরে সঞ্চালনায় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সদ্য যোগদানকৃত ১৮জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ১ জন সাব-টেকনিক্যাল অফিসার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।