

যুক্তরাজ্য ডেস্ক:
গত ২৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য জাসদের প্রতিনিধি দল। স্মারকলিপিতে তারা বাংলাদেশের চলমান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চরম মৌলবাদী জঙ্গিদের অভ্যুত্থান ও এর ফলে উদ্ভূত সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থার বিরোধিতার আন্দোলনের ছদ্মাবরণে এই অভ্যুত্থান শুরু হয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও যুক্তরাজ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন বিদ্রোহীদের দখলে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে হামলা এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার এই ঘটনার প্রতিরোধে ব্যর্থ নয়, বরং একে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করছে। আমরা জোরালোভাবে অনুরোধ করছি যে, যুক্তরাজ্য হাইকমিশন এই অভিযোগসমূহ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করুক। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি বাংলাদেশের সংবিধান থেকে মুছে ফেলার অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আই সি টি ) ব্যবহার করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নেতাদের বিচারিক হত্যার পরিকল্পনা একটি চরম বিচারিক প্রহসন। আই সি টি , যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছিল, এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
জাসদ নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানানো, দায়ী ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, একটি স্বাধীন তদন্ত, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং নির্যাতিতদের রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অভ্যুত্থান-সমর্থিত শক্তিগুলো কোনো ধরনের সহায়তা না পায়।
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি মতিউর রহমান মতিন, যুক্তরাজ্য জাসদের কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট মুজিবুল হক মনি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, এবং কবি সালমা বেগম।