জৈন্তাপুরে‘র নাগা মরিচ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

 

জৈন্তাপুর (সিলেট) :
সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলার আবহাওয়া ও পরিবেশগত সুবিধা এবং এখানকার মাটি অনেকটা উপযুগী হওয়ার ফলে সম্প্রতি বছর গুলোতে উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক কৃষকরা শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসলা জাতীয় ফসল নাগা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে ব্যাপক ভাবে নাগা মরিচ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে সরাসরি লন্ডন, ইউরোপ সহ অন্যান্য দেশে নাগা মরিচ রপ্তানী করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এ বছরে জৈন্তাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় নাগা মরিচ চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রান্তিক চাষীরা স্থানীয় ভাবে নাগা মরিচ বাজারজাত করতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ,নিজপাট ফতেপুর, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়ন সহ অন্যান্য এলাকার গ্রামীণ কৃষকরা বিগত দুই বছর থেকে নাগা মরিচ চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি আরোও জানান, বিগত ২০১৮ সালে ১২০ হেক্টর এবং চলতি বছরে প্রায় ১৫০ হেক্টর কৃষি জমিতে নাগা মরিচ চাষা করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিবির পর্যবেক্ষন থাকায় এ বছর ভালো ফসল উৎপদান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাগা মরিচ বিদেশে রপ্তানী করতে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক কৃষকদের সাথে চুক্তি করেছে। বিদেশ রপ্তানী করতে প্রাথমিক ভাবে উপজেলার ১শত জন কৃষকের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাগা মরিচ চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় সহযোগিতা করবে।
জানা যায়, নাগা মরিচ হচ্ছে উচ্চ মুল্যের একটি মসলা জাতীয় ফসল, জৈন্তাপুর উপজেলার আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এ ফসল চাষের জন্য একটি উপযোগি জায়গা। উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের, সারীঘাট ছৈলাখেল, হেলিরাই, বারগতি, নয়াগতি, ঢুপি, চারিকাটা ইউনিয়নের রামপ্রসাদ, দরবস্ত ইউনিয়নের বেধু হাওর ,লাইন নদীর পার্শ্ববর্তী খরিলহাট মাদ্রাস সংলগ্ন জায়গায় সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিরাখাই-বাউরভাগ ,ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগেরখাল এলাকায় নাগা মরিচ চাষাবাদে কৃষকরা এগিয়ে এসেছে। দরবস্ত ইউনিয়নের বেধু হাওর এলাকায় অন্তত ৪শত বিঘা জায়গা জুড়ে দরবস্ত শ্রীখেল গ্রামের তালিকাভূক্ত ২৬জন কৃষক এ বছর নাগা মরিচ চাষ করেছে।
শ্রীখেল গ্রামের কৃষক আম্বিয়া জানান, তিনি এবার ১২ বিঘা জমিতে নাগা মরিচ চাষা করছে। ২০১৮ সাল থেকে তিনি নিয়মিত নাগা মরিচ চাষ করে আসছেন। গত শীত মৌসুমে তিনি ১৮ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে ১৪ লাখ টাকা বিক্রয় করেন। এতে তার ৬ মাসে ব্যয় বাদে লাভ হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তিনি আরোও বলেন, নাগা মরিচ উৎপাদন সেক্টরকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হলে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা আর্থিক ভাবে অনেক লাভবান হবে। এক বিঘা জমিতে অন্তত ৯শত থেকে ১ হাজার চারা গাছ রোপন করা হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০/২৫ হাজার নাগা মরিচ উৎপদান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি গাছে ২শত থেকে ৩শত মরিচ উৎপাদন হয়ে থাকে।
নাগা মরিচ গ্রামীণ জনপদ ও শহরে এলাকায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যবহার ও খাবারের অনেকটা সুগন্ধ, সু-স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। ফলে নাগা মরিচ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে একটি নাগা মরিচ ৩/৪ টাকায় বিক্রয় করা হয়। সামনের দিনগুলোতে আহবাওয়া ও পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে জৈন্তাপুর উপজেলায় নাগা মরিচ ব্যাপক ভাবে উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। নাগা মরিচ বিক্রয় করে জৈন্তাপুর উপজেলা অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো গতিশীলতা আসতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জৈন্তাপুর উপজেলায় নাগা মরিচ চাষে একটি প্রকল্প গ্রহন করে প্রান্তিক চাষীদের সরকারী ভাবে পৃষ্টপোষকতা করা হলে এই উপজেলায় অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটা এগিয়ে যাবে।
দরবস্ত ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শোয়েব আহমদ জানান, একটি গাছে প্রায় ২শত নাগা মরিচ উৎপাদান হয়ে থাকে। আমি প্রন্তিক কৃষকদের সর্বাত্তক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (বিসিএস) সুব্রত দেবনাথ বলেন, নাগা মরিচ চাষে নিয়মিত কৃষকদের মটিভেশন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদেশী রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সাথে কৃষকদের সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নাগা মরিচ বাণিজ্যিক ভাবে সারা দেশের ছড়িয়ে দেয়া হলে অর্থনৈতিক ভাবে এখানকার প্রান্তিক চাষীরা আরোও লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। জৈন্তাপুর উপজেলার পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানে বিগত বছর গুলোতে নাগা মরিচ চাষে কৃষকরা এগিয়ে আসছে। সরকারী ভাবে আমরা প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। ব্যয় বহুল হওয়ায় কারনে সরকারী ভাবে তেমন পৃষ্টপোষকতা করা সম্ভব হয়নি। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিদিন মাঠে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষি অধিদপ্তরে নাগা মরিছ চাষে বিশেষ কোন প্রকল্প গ্রহন করেনি। তবে জৈন্তাপুর উপজেলার প্রান্তিক জনপদে যে ভাবে কৃষকগণ নাগা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ে নাগা মরিছ চাষে উপজেলায় একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহনের প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। চলতি বছরে জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে সরাসরি নাগা মরিচ ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, কৃষকরা হচ্ছেন দেশের প্রাণ। সরকার দেশের প্রান্তিক চাষীদের কল্যাণে সবরকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদের উন্নয়নে কৃষি অধিদপ্তর কৃষি কার্ড প্রদান করে সরকারি অনুদান দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে জৈন্তাপুর উপজেলায় শীতকালীন নাগা মরিচ চাষে কৃষকগণ আরোও উৎসাহিত হবে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code