জৈন্তাপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত, আহত শতাধিক

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে জমি বিকিকিনি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৮ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এ কারণে সিলেট-তামাবিল সড়কে কয়েক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো। ফলে লোকজনকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রোববার (৩ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও লামা শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও হাউদপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। থেমে থেকে সংঘর্ষ চলে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

Manual5 Ad Code

নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক সালেহ আহমদ (৫০) উপজেলার হেমু ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিফত আলীর পুত্র। তিনি একজন কুরআনে হাফিজ ও মাওলানা। তিনি সিলেট নগরীর মেজরটিলা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

Manual2 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও হাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক আহমদ ও শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহমদের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিলো। এরই জেরে রোববার (৩ এপ্রিল) রাতে তারাবির নামাজের পর উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রাত ১২টার দিকে হাদপাড়া ও শ্যামপুর গ্রামবাসী হরিপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়ায়। সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ। এ সময় আশপাশের গ্রাম থেকে মুরব্বি ও পুলিশ এসে সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করেন। সোমবার সকালে স্থানীয় মাদ্রাসার একদল আলেম দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে ঘটনাস্থলে যান। এই দলে ছিলেন নিহত সালেহ আহমদ।

Manual3 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক স্বজন জানান, সকাল ৭টার দিকে আলেমদের প্রতিনিধি দল যখন ঘটনাস্থলে যায় ঠিক তখন পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে সবাই এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে সালেহ আহমদ মাটিতে পড়ে যান। তখন হাদপাড়া গ্রামের লোকজন সালেহ আহমদকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

Manual3 Ad Code

সিলেট জেলা পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) লুৎফুর রহমান সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। এছাড়া সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে পুলিশ।

তবে সোমবার দুপুর ১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন সিলেট জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এড. নাসির উদ্দিন খান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code