প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় পৌঁছানোর পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভারতের উপহার হিসেবে ১২ লাখ টিকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ করেছেন এবং তা সরকারি সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।’
এ নিয়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে উপহার হিসেবে মোট ৩২ লাখ টিকা পেল। এর আগে জানুয়ারিতে ভারত উপহার হিসেবে অক্সফোর্ডের ২০ লাখ টিকা দিয়েছিল। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত এই টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে।
এ দিকে দেশে করোনার টিকার মজুত কমে আসছে। তবে টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, ঠিক সময়ে টিকা আসবে।
করোনার টিকা নিয়ে সেরাম ইনস্টিটিউট, সরকার ও বেক্সিমকোর মধ্যে ক্রয় চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী বেক্সিমকো সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা এনে সরকারকে সরবরাহ করবে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে আনবে। এভাবে ছয়টি চালানে মোট ৩ কোটি টিকা আনার কথা।
বেক্সিমকো জানুয়ারি মাসে ৫০ লাখ টিকা সরবরাহ করেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ২০ লাখ সরবরাহ করেছিল, বাকি ছিল ৩০ লাখ। এ দিকে মার্চ মাস শেষ হতে চলল, টিকা কবে আসবে, তা নিশ্চিত করছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৬ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দিয়েছে। এদের প্রত্যেককে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে একই পরিমাণ টিকার প্রয়োজন। নতুন আসা ১২ লাখ ডোজসহ গতকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে টিকা মজুত ছিল ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৫৪৪ ডোজ। অর্থাৎ নতুন টিকা না এলে ৭৮ হাজার ৯১২ জনকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না।
এরই মধ্যে ভারত টিকা রপ্তানি সাময়িক স্থগিত করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে কেনা টিকা কবে নাগাদ কী পরিমাণ দেশে আসবে, তা স্পষ্ট করে কেউ বলছেন না। গত পরশু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা বলেছিলেন, ‘আমরা টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। চুক্তি অনুয়ায়ী টিকা পাব না, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
গতকাল টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর জনসংযোগ শাখা বলেছে, টিকা ঠিক সময়ে আসবে।
