টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল আজ, ভারতের স্বপ্নে কিউইদের চ্যালেঞ্জ

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববারের ফাইনালকে ঘিরে জমে উঠেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। স্বাগতিক ভারত ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে, আর নিউজিল্যান্ড চাইছে সব হিসাব বদলে দিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস লিখতে।

Manual4 Ad Code

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এক লাখের বেশি দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মাঠে থাকা দর্শক ছাড়াও টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখবে কোটি কোটি সমর্থক। সেই বিশাল প্রত্যাশার চাপ নিয়েই মাঠে নামবে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েই ফাইনালে পৌঁছায় ভারত। ২৫৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পরও ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ছিল। শেষ পর্যন্ত যশপ্রীত বুমরার দুর্দান্ত ১৮তম ওভারই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। ১৮ বলে যখন ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৫ রান, সেই ওভারে মাত্র ৬ রান দেন বুমরা। ফলে ৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত।

সেমিফাইনালের পর ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, “চাপ আর স্নায়ুর পরীক্ষা তো থাকবেই। বিশেষ করে নিজের দেশে খেলতে হলে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। তবে দলের সবাই এই ম্যাচ নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত।”

ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডও এসেছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে। সেমিফাইনালে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দেয় মিচেল স্যান্টনারের দল। সেই ম্যাচে মাত্র ৩৩ বলে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে আলোচনায় উঠে আসেন ওপেনার ফিন অ্যালেন।

অ্যালেন ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসের সুরেই বলেন, “আমরা বেশ ভালো ছন্দে আছি। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি।”

নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটিও এই টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ওপেনার টিম সাইফার্ট ইতোমধ্যে তিনটি অর্ধশতক করেছেন। সেমিফাইনালে অ্যালেনের সঙ্গে প্রথম উইকেটে মাত্র ৯.১ ওভারে ১১৭ রান যোগ করে ম্যাচের ভিত গড়ে দেন। সাইফার্টের ব্যাটিং নিয়ে অ্যালেন বলেন, “সে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। আমি মূলত তাকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে যেন গ্যালারির সেরা আসন থেকে তার ব্যাটিং উপভোগ করেছি।”

ফাইনালের আগে আলোচনায় আছে আহমেদাবাদের উইকেটও। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পিচে থাকতে পারে সামান্য সবুজ আভা। তবে এটি ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ সহায়ক হতে পারে।

লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি এই উইকেটে বলের গতি ও বাউন্স ভালো থাকার কথা। বল খুব বেশি থেমে আসবে না, অসম বাউন্সও থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় রান করার সুযোগ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পিচে সম্ভাব্য পার স্কোর ধরা হচ্ছে প্রায় ২০০ রান।

এই উইকেটে এবারের বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ২১৩ রান তোলে, যদিও কানাডা জবাবে করতে পারে ১৫৬ রান। ভারতও এই মাঠে দুটি ম্যাচ খেলেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারালেও ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১১ রানে গুটিয়ে যায় সূর্যকুমার যাদবের দল।

এই স্টেডিয়াম ভারতের জন্য কিছুটা অস্বস্তির স্মৃতিও বহন করে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে এখানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল তারা। এবারের বিশ্বকাপেও এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি ম্যাচ হেরেছে ভারত।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ঘরের মাঠের সুবিধা বিবেচনায় অনেকেই ভারতকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে ভারত এর আগে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, প্রথমবার ২০০৭ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২৪ সালে।

Manual5 Ad Code

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড এখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারেনি। ২০২১ সালে ফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেয়েছে কিউইরা।

Manual6 Ad Code

সব মিলিয়ে আহমেদাবাদের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন গল্পের দল। একদিকে স্বাগতিক ভারতের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রথম শিরোপা জয়ের লড়াই। মাঠের লড়াইই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code