ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্ত হন্ডুরাসের সেই সাবেক প্রেসিডেন্ট

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : তথাকথিত মাদক পাচারের দায়ে ভেনেজুয়েলায় হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে একজন দণ্ডিত কোকেন পাচারকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণার পর মাদক পাচার মামলায় দণ্ডিত হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার হ্যাজেলটনে উচ্চ-নিরাপত্তার কারাগার থেকে হার্নান্দেজকে মুক্তি দেওয়া হয়।

Manual4 Ad Code

২০২৪ সালে মার্কিন ফেডারেল আদালতে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন অরল্যান্ডো। ২০২২ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তিনি দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অস্ত্র ও মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি বিশাল ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ৪৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছিল বলে জানায় নিউ ইয়র্ক টাইমস। গত রোববার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জুয়ান অরল্যান্ডোকে “সম্পূর্ণ ও পূর্ণ ক্ষমা” দেয়ার ঘোষণা দেন এবং একই সঙ্গে হন্ডুরাসের ডানপন্থি দল ন্যাশনাল পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাসরি আসফুরাকে সমর্থন জানান। ট্রাম্প দাবি করেন, অনেক সম্মানিত মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হন্ডুরাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হতে কয়েকদিন বাকি থাকতেই এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত ঘোষণা অত্যন্ত কৌশলগত। এতে ডানপন্থি দলের প্রার্থী সরাসরি উপকৃত হবেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অরল্যান্ডো বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া কোকেনের চালান হন্ডুরাস মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে পাচারকারীদের সহায়তা করেন। এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রেই অভিযুক্ত অরল্যান্ডোকে ট্রাম্পের ক্ষমার পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্র ও হন্ডুরাস উভয় দেশের কর্মকর্তাদের হতভম্ব করে দেয়। মার্কিন প্রসিকিউটররা আদালতকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অরল্যান্ডো আজীবন কারাগারে থাকেন। তাদের বক্তব্য ছিলÑ৫৭ বছর বয়সী হার্নান্দেজ ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধী মাদকচক্রের সঙ্গে আঁতাত এবং কোকেনের অপরিমেয় ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী।

Manual5 Ad Code

এদিকে, গত ২৯ নভেম্বর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলাভিত্তিক মাদকচক্র ধ্বংসে ব্যাপক সামরিক ও কূটনৈতিক অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের সঙ্গে অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলান মাদকচক্র ‘কার্টেল অব দ্য সানস’কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। এছাড়া, উত্তেজনা শুরুর সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবাহী জাহাজে প্রাণঘাতী হামলার অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা এখনও চলমান রয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নৌযানগুলো লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত ২০ দফারও বেশি হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code