

নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান স্ট্রাকচার প্ল্যান এবং তিনধাপ ভিত্তিক মহাপরিকল্পনার সর্বশেষ তৃতীয় ধাপের গেজেটকৃত ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) বাতিল করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) ভুল তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এই ড্যাপ এখনই বাতিল করা দরকার। সংশোধিত জনবান্ধব নতুন কার্যকর ড্যাপ প্রণয়ন করতে হবে জোর দাবি জানান তারা।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। ‘জনবৈরী ড্যাপ, বৈষম্যপূর্ণ পরিকল্পনা: নিম্ন নাগরিক বাসযোগ্যতা ও বিপন্ন পরিবেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ড্যাপের ১২টি আইনগত ও তথ্যগত ত্রুটি তুলে ধরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) এবং গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (GDA) আইনের সঠিক ও যৌক্তিক বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল এবং সহজলভ্য ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন।
প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ সহনীয় একটি অংশগ্রহণমূলক ও হালনাগাদ মৌজা ভিত্তিক ড্যাপ তৈরি এবং তা প্রতি পাঁচ (৫) বছর অন্তর পর্যালোচনা ও পরিচালনা করা।
বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীসহ পারিপার্শ্বিক গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকা নিয়ে অবিলম্বে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ সহনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক, পরিবেশবান্ধব, জনবান্ধব ও বৈষম্যহীন আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তিনধাপ (Structure Plan, Urban Area Plan & Detailed Area Plan) ভিত্তিক ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন, যেখানে সরকারের Climate Change, SDGs, Sendai Agreement, Zero Emissions, De-carbonization ইত্যাদি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির যথাযথ সংযোজন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ড. মাসুদ উর রশিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি স্থপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ, সহসভাপতি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) স্থপতি খান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, সহসভাপতি (জাতীয় বিষয়াদি) স্থপতি নওয়াজীশ মাহবুব, সম্পাদক (পেশা) স্থপতি ওয়াহিদ আসিফ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা বহুদিন ধরে রাজউকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিফলন পাইনি। তাই আজ জনগণের দাবি ও অধিকার তুলে ধরতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনদুর্ভোগ এড়াতে, ভবিষ্যতের ঢাকা বাঁচাতে, বাসযোগ্য নগর গড়তে এবং নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ জনগণই পারে টেকসই, ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ঢাকা গড়ে তুলতে।
বলা হয় ড্যাপের প্রথম অনুচ্ছেদেই বলা আছে ঢাকার কৌশলগত পরিকল্পনা তিনস্তরে হবে। ১. ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান, ২. ঢাকা আরবান এরিয়া প্ল্যান, এবং ৩. ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ। এর মধ্যে শুধুমাত্র তৃতীয় ধাপটি প্রণয়ন করা হয়েছে, প্রথম দুইটির অস্তিত্ব নেই। বরং স্ট্রাকচার প্ল্যান পরিবর্তে ড্যাপে ইমারত নির্মাণ বিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার কারণে যত জটিলতা শুরু হয়, এবং এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। (সূত্র: ড্যাপ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৫)
ড্যাপের সকল তথ্য ২০১৫ সালের উপর ভিত্তি করে রচিত, স্বাভাবিক ভাবেই যা ২০২৫ সালের জন্য গ্রহণযোগ্যতা হরিয়েছে। ড্যাপের মেয়াদকাল ২০২২ খেলে ২০৩৫ পর্যন্ত হলেও সকল হিসাব ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপিত হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় বাকি দশ বছর কি হবে?
(সূত্র: ড্যাপ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮, ৪৫, ৫২, ১৩৮, ৩৪৯, ৩৫৫) । এ সময় এসব সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে আসার আহ্বায়ন করা হয়।