

সম্পাদকীয়:
পিলখানা হত্যাকাণ্ড। বিগত পতিত সরকারের আমলেই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মামলাও হয়েছে। চলমান দুটো মামলার একটির রায়ও হয়ে গেছে। কিন্তু দেশের মানুষ তা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ, যে তদন্ত হয়েছে, সে তদন্ত মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যে তদন্তের ওপর মানুষের আস্থা নেই, সেই তদন্তের ভিত্তিতে যে বিচার হয়েছে, মানুষ তা গ্রহণ করবে কী করে! এ দেশের জনগণ মনে করেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যচারীদের স্বরূপ উন্মোচন না করা পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার সম্ভব নয়। আদালত যে রায় দিয়েছেন, সে রায়েও ঘটনার পেছনের স্বার্থান্বেষী মহলকে চিহ্নিত করতে পৃথক ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের জন্য শেখ হাসিনা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার খুব সচেতনভাবেই তা উপেক্ষা করেছে। দেশের একাধিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, শেখ হাসিনা চাননি পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি হোক। এ বিষয়ের আরও গভীরে গেলে, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। তার একক সিদ্ধান্তেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পৃথক ‘তদন্ত কমিশন’ আর গঠন করা হয়নি।
পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পরপর ২০২০ সালে দৈনিক যুগান্তরে ‘পিলখানা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যচারীদের শনাক্ত করা কি সম্ভব?’ নামে আমার লেখা নিবন্ধে ‘তদন্ত কমিশন’ গঠন করার অনুরোধ ছিল। তিন বছর পার হওয়ার পরও সরকার তদন্ত কমিশন গঠন না করলে ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘পিলখানা হত্যার পেছনের ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠিত হবে কি?’ শিরোনামে লেখা আমার আরেকটি নিবন্ধ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। সে লেখায় কিছু প্রশ্ন ছিল, ‘সরকার চাইলেই হাইকোর্টের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে। এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড কিছু বিডিআর সদস্য দ্বারা সম্ভব নয়। এ ঘটনার পেছনে কারও না কারও ইন্ধন থাকতে বাধ্য। যদি তাই হয়, তাহলে এসব ইন্ধনদাতাকে খুঁজে বের করতে সরকারের সমস্যা কোথায়’? নিবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল; সে কথা এখানে নাইবা বললাম। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। ঘটনার সময় আমি ঢাকার বাইরের একটি বিডিআর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলাম। কাজেই এ বিষয় নিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা সম্ভব ছিল না। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি আমার সঙ্গে বিডিআর সদস্যরা যে ব্যবহার করেছিল, তা বর্ণনাতীত। আমরা যারা এখনো বেঁচে আছি, তারা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করেছিলাম, তা কেবল আমরাই বলতে পারি। সবাই জানে, বিডিআর হত্যাকাণ্ড মানেই শুধু পিলখানার ঘটনা। কিন্তু ঢাকার বাইরের বিডিআর ব্যাটালিয়নগুলোতে সেদিন কী মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, তা দেশবাসীর কাছে অজানাই রয়ে গেছে। সেসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোও আগ্রহ দেখায়নি।