অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনার এই সময়েও তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সময়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়লেও দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে। গত ছয় মাসে অন্যান্য দেশেও রপ্তানি আগের তুলনায় বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৪২৪ কোটি ডলারের (৩৬ হাজার ৫০ কোটি টাকা প্রায়) পোশাক। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৯০ কোটি ডলার (২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা প্রায়)। অর্থাৎ ১৩৪ কোটি ডলার বা সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি বেশি হয়েছে এ সময়।
তবে সার্বিকভাবে রপ্তানি আয়ে সুখবর দিয়ে বিদায়ি বছরের ডিসেম্বর মাস শেষ হলো। মাস ভিত্তিতে সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলারে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর আগে সর্বশেষ গত অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৪৭২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। রপ্তানির এ রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। ডিসেম্বরে ৪০৪ কোটি ডলারের বা ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। তাতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের ছয় মাস হিসাবে প্রবৃদ্ধি ২৮ শতাংশ।
তবে এই আশার খবরে ওমিক্রন নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যদি করোনার এই নতুন ধরনের প্রভাবে আবারও দেশে দেশে লকডাউন শুরু হয়, তাহলে রপ্তানি বাণিজ্যেও আগের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
