

স্পোর্টস ডেস্ক: চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি জিতলো বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ১৫৬ রানে আটকে দেওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্তর ঝড়ো ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে তারা। এরপর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পায় স্বাগতিকরা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে এই জয় অবিস্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ। ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে তারা।
১৮তম ওভারের শেষ বলে ক্রিস জর্ডানকে চার মেরে দলকে জেতান সাকিব। ২৪ বলে ৬ চারে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে আফিফ অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।
রনি তালুকদারের ছোটখাটো ঝড়ে দারুণ শুরু হয় বাংলাদেশের। যদিও তিনি ও আরেক ওপেনার লিটন দাস বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শান্ত প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ আউট হয়েছিলেন, রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। ফিরে পাওয়া জীবনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নেন তিনি। ২৭ বলে করেন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে দলকে নিরাপদ স্থানে রাখেন। সাকিবের ব্যাটে পা হড়কায়নি বাংলাদেশ। জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক।
নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে গেলেও তাদের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ কম পড়েছিল। সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন স্নায়ু ধরে রেখে দলকে টেনে তুলছেন। ৪ উইকেটে ১৩৮ রান করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে ভালো অবস্থায় রেখে ফিরলেন হৃদয়-শান্ত
১৫৭ রানের টার্গেটে নেমে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে রেখে ফিরে গেলেন তৌহিদ হৃদয়। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৩৯ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও দুটি চার। ১৭ বলে ২৪ রান করেন হৃদয়। ১০৮ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। পরের ওভারে মার্ক উডের কাছে বোল্ড হন শান্ত। ৩০ বলে ৮ চারে ৫১ রান করেন তিনি।
একশ ছাড়ালো বাংলাদেশ, শান্তর হাফ সেঞ্চুরি
৬১ বল খেলে বাংলাদেশের স্কোর একশ হলো। নাজমুল হোসেন শান্ত ১১তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন। তাতে বাংলাদেশ করে ২ উইকেটে ১০০ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন শান্ত। ২৭ বলে ৮ চারে তৃতীয় ফিফটি মারলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুই ওয়ানডেতেও হাফ সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটসম্যান।
ঝড় তুললেন শান্ত
পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান করেছিল বাংলাাদেশ। ২ উইকেট হারায় তারা। নিঃসন্দেহে ভালো সংগ্রহ। স্কোরবোর্ড আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারে মার্ক উডকে প্রথম চার বলে চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ২ উইকেটে ৭১ রান। পরের দুই ওভারে বল বুঝে আরও দুটি চার হাঁকান শান্ত।
দুই ওপেনারকেই পাওয়ার প্লের মধ্যে হারালো বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে রনি তালুকদারকে ফেরান আদিল রশিদ। তাকে অনুসরণ করেন লিটন দাস পরের ওভারেই। জোফরা আর্চারের বল পুল করে মিড অনে ক্রিস ওকসকে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। ১০ বলে ২ চারে ১২ রান করেন লিটন।
৮ বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনে দারুণ খেলছিলেন রনি তালুকদার। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। আদিল রশিদের গুগলিতে ভেঙে যায় তার স্টাম্প। ১৪ বলে চার চারে ২১ রানে থামেন রনি। দুই বল পর নাজমুল হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে ইংলিশ স্পিনার এলবিডব্লিউর আবেদন জানালে আম্পায়ার আউট দেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান শান্ত। আল্ট্রাএজে বল তার ব্যাট স্পর্শ করতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ইংল্যান্ড। চট্টগ্রামে দুই ওপেনারে যেভাবে শুরুটা হয়েছিল, তাতে বড় স্কোরই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। তবে যে লক্ষ্যে শুরুতে বোলিং নেওয়া। তাতে বলা যায় সফল হয়েছে স্বাগতিক দল। একটা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের রানার চাকা বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ১৭তম ওভারের আগ পর্যন্ত ঝড়ো গতিতে রান তুলছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার। ৪২ বলে ৬৭ রান করা বাটলারের ঝড় থামিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তার আউট হতেই ঝড় থেমে যায় ইংলিশদের। পরবর্তী চার ওভারে রান চেক দেওয়ার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদরা দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ায় সেভাবে রান তুলতে পারেনি সফরকারী দল।
২৬ রানে দুটি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান।