

বিশেষ প্রতিবেদন: দ্রব্যমূল্য বাড়ায় দেশে নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। বেসরকারি সংগঠন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (বিআইজিডি) গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
রবিবার (৫ জুন) এক ভার্চুয়াল সভায় জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘করোনার পর দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আছে। তবে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। দরিদ্ররা টিকে থাকার চেষ্টা করছে। খাওয়া কমিয়ে। কাজ বাড়িয়েছে।’
মূল্যস্ফীতি, খাপ খাওয়ানো ও পুনরুদ্ধারের প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গবেষণা-জরিপের কাজ চলে গত ১৪ থেকে ২১ মে পর্যন্ত। জরিপে অংশ নেয় গ্রাম ও শহরের ৩ হাজার ৯১০ জন।
জরিপের তথ্যানুযায়ী, মানুষের আয় এখন করোনার আগের সময়ের চেয়ে গড়ে ১৫ শতাংশ কম। শহরে এ হার ২৫ শতাংশ। গ্রামে ১ শতাংশ।
জরিপে এটা স্পষ্ট যে, শহরের মানুষেরই আয় কমেছে। আবার শুধু দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শহরের মানুষের আয় কমার হার ৮ ও গ্রামে ৩ শতাংশ।
বিআইজিডির পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ২০১৭ সালে দরিদ্র মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১১৭ টাকা। প্রথম লকডাউনের পর তা কমে হয় ৬৫ টাকা। পরে তা বেড়ে ১০৩ টাকা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে হয় ১০৫ টাকা। এখন আবার নেমে ৯৯ টাকা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৬ শতাংশ আয় কমেছে। দেখা গেছে, গ্রাম ও শহরের কৃষি ও পরিবহন খাতে জড়িতরা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন। কিন্তু রিকশাচালক, কারখানা শ্রমিক ও গৃহকর্মীর ওপর এর প্রভাব মারাত্মক।
জরিপে উল্লেখ করা হয়, দ্রব্যমূল্যর কারণে নারীরা নতুন করে কর্মক্ষেত্রে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তবে করোনাকালের কাজ হারানো ৩৬ শতাংশ নারী এখনও কর্মক্ষেত্রে ঢুকতে পারেননি।
জরিপের তথ্য বলছে, ২৭ শতাংশ পরিবার এখন আগের চেয়ে কম চাল কিনছে। নিম্নমানের চাল কিনছে ৩৬ শতাংশ পরিবার।