দোকান কিনে হাসপাতাল বানাচ্ছে ল্যাবএইড!

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual3 Ad Code

মার্কেটের জায়গা (দোকান) কিনে সেখানে হাসপাতাল সম্প্রসারণের অভিযোগ উঠেছে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডির কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে।

ল্যাবএইডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগতরা হামলা-ভাঙচুরের পর ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়েছে অভিযোগ করে এর প্রতিবাদে ওই শপিং মলের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন করে অ্যাসোসিয়েশন।

এতে বলা হয়, ২০০২ সালে কনকর্ড আর্কেডিয়া চালুর পর একে একে শতাধিক দোকান কিনে নেয় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ। এর পর মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় হাসপাতালের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে তারা।

Manual1 Ad Code

সমিতির অভিযোগ- রাজউকের নকশা অমান্য করে মার্কেটে হাসপাতাল বানাচ্ছে ল্যাবএইড। মার্কেটের বড় অংশ হাসপাতালে রূপান্তর এবং কিনে রাখা অনেক দোকান মাসের পর মাস বন্ধ রাখায় সেখানে কেনাকাটা করতে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সানাউল হক নীরু বলেন, ‘রাজউকের লে-আউট প্ল্যান ও ডেভেলপারের ঘোষণা অনুযায়ী শপিংমলটির একটি বেজমেন্ট, নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনড মার্কেট এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা অফিসের জন্য বরাদ্দ ছিল।

Manual4 Ad Code

‘শপিংমল চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে ২০৪টি দোকানের মধ্যে নিচতলার ৪১টি, দ্বিতীয় তলায় ২৪টি, তৃতীয় তলার ১২টি, চতুর্থ তলার ৩১টি দোকান, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় অফিস, ডা. চেম্বার, কোচিং সেন্টার ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ দেয়া হয়।”

তিনি বলেন, হঠাৎ করে ২০০৫ সালে আমরা জানতে পারি মার্কেটের তৃতীয় তলার এবং চতুর্থ তলার মোট ১০২টি দোকান ও পঞ্চম তলার ৭০০০ বর্গফুট অফিস স্পেস কিনে নিয়েছেন ল্যাবএইড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা এ.এম. শামীম।

‘দোকানগুলো কিনে নেয়ার পর মার্কেটের তৃতীয়, চতুর্থ তলা ও পঞ্চম তলার ল্যাবএইডের পাশের অংশ ভেঙ্গে হাসপাতালের সঙ্গে এক করে দেয়। ওই ফ্লোরগুলোতে সাধারণ ক্রেতা ও মার্কেটের সংশ্লিষ্ট লোকজনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজউক চতুর্থ তলা পর্যান্ত মার্কেটের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ল্যাবেএইড জোর করে হাসপাতাল বানিয়ে ফেলছে।’

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে ২০১১ সালের ২৮ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ওনার্স অ‌্যাসোসিয়েশন। এর আগে রাজউকের অনুমোদিত নকশার বহির্ভূত নির্মাণ কাজের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তারা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর রাজউকের অনুমোদিত নক্সার বিচ্যুতি ঘটানোর কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়।

এছাড়া ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর মার্কেটের ভূমি মালিক ও ল্যাবএইডের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিংমল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ‌্যাসোসিয়েশন। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেন দেন আদালত। সে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনো।

Manual8 Ad Code

সানাউল হক নীরু আরো বলেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শপিংমলটি পাঁচ দিন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় তলার ২০৮ নম্বর দোকানের পেছনের অংশ ভেঙে ল্যাবএইডের সঙ্গে করিডোর নির্মাণ করে তারা। সেখানে কলাপসিবল গেটও লাগানো হয়েছে। এভাবে একের পর এক মার্কেটের দোকান ল্যাবএইডের সঙ্গে এক করে ফেলায় শপিংমলটির সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code