ধুনটে প্রতিবন্ধী হাফিজুরের শিক্ষা জয়ের অদম্য গল্প

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া):
মানুষের অদম্য ইচ্ছা থাকলে কোন বাধাই তাকে আটকাতে পারে না। সে কথাই প্রমান করছেন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন আলোকিত জীবনের পথে। জীবন তাকে অনেক কিছু না দিলেও তার প্রাপ্য ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

একজন সহযোগীর সাহায্য নিয়ে যে ছেলেটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয়, যে কিনা মুখে কলম ধরেই সম্মানের সহিত অতিক্রম করেছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অতিপরিচিত মুখ হাফিজুর রহমানের কথা বলছিলাম। যিনি জন্মগতভাবেই অপরস্ফুটিত দুই হাত ও দুই পার অধিকারী।

Manual6 Ad Code

হাফিজুর ১৯৯৩ সালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেন। বাবা পৌঢ় পক্ষাপঘাতের রোগী মফিজ উদ্দিন পেশায় সাধারণ কৃষক, মা ফিরোজা বেগম গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া হাফিজুরের পড়ালেখা ও যাবতীয় ভরণপোষণ হয়েছে পরনির্ভশীলতায়। মাঝে সরকারের দেওয়া ভাতা, গ্রামের সাহায্য সহযোগিতা ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের টিউশনি করিয়ে নামমাত্র অর্থ উপার্জন করেছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

গ্রামের ব্র্যাক স্কুলে শুরু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। সে সময় বেয়ারিংয়ের গাড়িতে করে সহপাঠীরা স্কুলে নিয়ে যেত তাকে। এভাবেই ২০০৯ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.১৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপর ধুনট ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৬০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে জবির ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান করে নেন। ভর্তি হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। পরীক্ষার হলে মেঝেতে পাটিতে বসে ছোট টুলে খাতা রেখে মুখ দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিয়ে গেছেন এই শিক্ষার্থী।

Manual3 Ad Code

হাফিজুর রহমান বলেন, একসময় সবাই বলত আমার পক্ষে উচ্চশিক্ষা নেয়া সম্ভব নয়, হাল ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনও পরিকল্পনা করতে। কিন্তু আজ আমি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। এটা জেনে আমার এলাকার অনেকেই গর্ব বোধ করে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code