নওগাঁয় খুঁটি ছাড়া বিদ্যুতের সংযোগ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

নওগাঁ:
নওগাঁর রানীনগরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) এর বিদ্যুতের তার প্রায় দুই কিলোমিটার অরক্ষিতভাবে টেনে সেচ পাম্পে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। খুঁটির মাধ্যমে সেচ পাম্পে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার নিয়ম। কিন্তু নেসকো কর্তৃপক্ষ মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়াই বাঁশের খুঁটি ও গাছের উপর দিয়ে তার টেনে সেচ পাম্পে সংযোগ দিয়েছেন। গত চার বছর থেকে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে সেচ পাম্প পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযাগ করেন পাম্প মালিকরা।
জানা গেছে, রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের সোনাতলা, কাউটাগাড়ি, হামিদপুর, মিরার মাঠ ও ধনপাড়া ডুবের মাঠে প্রায় দেড় হাজার বিঘা ফসলি মাঠ। এসব মাঠে বছরের পর বছর স্থানীয় কৃষকরা ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আবাদ করে আসছিলেন। এতে করে আবাদ করতে গিয়ে খরচ বেশি পড়ে যেত। গত চার বছর থেকে তিনটি সেচ পাম্পে নেসকো বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে আসছেন তিন পাম্প মালিক।
এজন্য সেচ পাম্প মালিকরা উপজেলার ২নং স্লুইচগেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে লাইন টেনে সেচ কাজ পরিচালনা করছেন। এরমাঝে কোন বিদ্যুতের স্থায়ী খুঁটি নাই। ২নং স্লুইচগেটের পাশে রাস্তার ধারে স্থায়ী একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তার টেনে বাঁশের খুঁটি ও গাছের উপর দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে লাইন (তার) টেনে সেচ পাম্পে সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাঁশের খুঁটিগুলো ভেঙে কোথায় তার মাটিতে আবার কোথাও পানির মধ্যে পড়ে রয়েছে। এ তারের নিচ দিয়ে স্থানীয়দের আসা যাওয়া করতে হয়। রাস্তার নিচে স্থানীয় এলাকাবাসীর গরু-ছাগল ঘাষ খেয়ে থাকে। গত বছর স্থানীদের দুইটি গরু বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সেচ পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা সুবিধা পেলেও সুবিধা পাচ্ছনা সেচ পাম্প মালিকরা। নেসকোর তৎকালিন কর্মকর্তা মোটা টাকা ঘুষ নিলেও খুুঁটির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়নি। এছাড়া আয়াপুর মৌজায় পাম্পের ছাড়পত্র নিয়ে ধনপাড়া মৌজায় পাম্প বসিয়ে সেচ কাজ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে পাম্প মালিক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

Manual6 Ad Code

স্থানীয় নোহাস, তোহা, আব্দুল জব্বার, মিঠুন ও কৃষক শাখাওয়াত হোসেন সহ কয়েকজন বলেন, শ্যালোমেশিন দিয়ে আবাদ করতে গিয়ে খরচ বেশি পড়তো। গত চার বছর থেকে বিদ্যুতের সেচ পাম্প থেকে পানি দিয়ে আবাদ করা হচ্ছে। এতে করে খরচ তুলনামুলক কম হচ্ছে। তবে অরক্ষিতভাবে বিদ্যুতের যে লাইন টানা হয়েছে তা ঝুঁকিপূর্ন। কোথায় বাঁশের খুঁটি ও গাছের উপর দিয়ে তারগুলো দেয়া হয়েছে। ঝড়বৃষ্টিতে তার মাটিতে পড়ে যায়। এতে করে মানুষ ও গরু-ছাগল ঝুঁকির মধ্যে থাকে। দ্রুত বিদ্যুতের খুঁটির মাধ্যমে লাইন সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা।
পাম্প মালিক আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের সাথে কথা ছিল ৩নং স্লুইচগেট থেকে খুুঁটি ও তার দেয়া হবে। কিন্তু ২নং স্লুইচগেট থেকে বিদ্যুতের খুুঁটি ছাড়াই তার টেনে পাম্পে সংযোগ দিয়েছেন। এতে আমাদের তিনটি পাম্পের জন্য বিদ্যুতের তার ও লোডে প্রায় ২২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাঁশ ও গাছের খুঁটির উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন দেয়া হয়েছে। গত চার বছর থেকে অরক্ষিতভাবে বিদ্যুতের লাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কৃষক উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু আমরা সুবিধা পাচ্ছি না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের লাইনের কারণে বিলের টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। প্রতি বছর খুঁটি পরিবর্তন করতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। আমরা লোকসানের মধ্যে রয়েছি। গরু, ছাগল ও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অরক্ষিত ভাবে লাইন থাকায় গত বছর দুইটি গরু মারা যাওয়ায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। গরু না মরে যদি মানুষের ক্ষতি হতো তাহলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। অফিসে যোগাযোগ করা হলে সময়ক্ষেপন করে। অফিসে কিছু খরচের জন্য টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ৮ লাখ টাকা দাবী করে।

Manual2 Ad Code

অপর পাম্প মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ লম্বা লাইনের কারণে চৈত্র মাসে ভোল্টের সমস্যা হয়। যদি বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হতো তাহলে ট্রান্সমিটার কাছে থাকলে ভোল্ট স্বাভাবিক পাওয়া যেত। প্রায় দেড় কিলোমিটার দুর থেকে নিজস্ব ভাবে তার টেনে পাম্প চালোনো হচ্ছে। তবে আয়াপুর মৌজায় পাম্প বসানোর ছাড়পত্র নিয়ে ধনপাড়া মৌজায় পাম্প বসিয়ে সেচ কাজ পরিচালনার বিষয়টি সত্য না বলে দাবী করেন তিনি।
নওগাঁ নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংযোগগুলো অনেক আগে করা হয়েছে। ওইসব এলাকার জমি সেচের অভাবে পতিত ছিল। পরবর্তীতে সেচের কারণে জমিতে দুই ফসলের আবাদ করা যাচ্ছে। এ বিষয়টি চিন্তা করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শুনেছি অফিস নিয়মের মধ্যে থেকে চালানোর অনুমোতি দিলেও গ্রাহকরা নিজেরাই তার টেনে নিয়ে গেছে। গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য অফিস থেকে তৎকালিন সময়ের কর্মকর্তা একবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু কৃষকদের কথা চিন্তা করে তা করা হয়নি। তবে আমাদের একটা প্রকল্পের কাজ চলছে। পরবর্তীতে আরেকটা প্রকল্প আসবে। সে প্রকল্পের আওতায় অরক্ষিত ভাবে রাখা তারগুলো সংস্কার করা হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। তবে আগের কর্মকর্তা কিভাবে সংযোগ দিয়েছেন তা আমার জানা নেই।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code